• , |
  • ঢাকা, বাংলাদেশ ।
সর্বশেষ নিউজ
* জলবায়ু উদ্বাস্তুদের রক্ষায় আইনি সংজ্ঞা প্রয়োজন * মেজর হাফিজকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ * এখনো নেভেনি এস আলম সুগার মিলের আগুন * রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে হোটেল-রেস্তোরাঁয় অব্যবস্থাপনা, আটক ২৪ * গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ * শিক্ষক রাজনীতি বন্ধে আচরণবিধি তৈরি করছে মন্ত্রণালয় * উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিলে আজীবন বহিষ্কার : বিএনপি‘র হাইকমান্ড * ইউক্রেনে মার্কিন আব্রামস ট্যাংক ধ্বংস করে রুশ সেনাদের কৌতুক * আওয়ামী লীগের শিক্ষা বাজেট বিএনপির জাতীয় বাজেটের চেয়ে বেশি: শিক্ষামন্ত্রী * হ্যারিসের সঙ্গে গ্যান্টজের বৈঠক, নেতানিয়াহুকে সরানোর মার্কিন ইঙ্গিত!

‘দখলদার এমআইইউ-কে বর্জন করো’ শ্লোগানে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মানববন্ধন

news-details

ছবি: সংগৃহীত


মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজের মাঠ দখল ষড়যন্ত্রের  প্রতিবাদে “দখলদার এমআইইউ-কে বর্জন করো” এই শ্লোগানে  মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ।

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২ টায় গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে এ  প্রতিবাদ  কর্মসূচি পালন করা হয়।

মাববন্ধনে মানারাত স্কুল ও কলেজের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের খেলার মাঠ দখলের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়ে নানা রকম প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীরা তাদের খেলার মাঠ ছেড়ে  না দেয়ার কথা বলেন। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বলেন,খেলার মাঠ শিুশুদের অধিকার, আমরা আমাদের খেলার মাঠ ছেড়ে দেব না।

বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত  প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে  প্রতিবাদ জানান, প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিলো ‘খেলার মাঠ শিশুদের অধিকার, ‘ এমআইইউ গো ব্যাক আশুলিয়া, ‘অবৈধ দখদার এমআইইউ গো ব্যাক আশুলিয়া, ‘দখলদার এমআইইউকে বর্জন করো’, দখলদারের কালো হাত হটিয়ে দাও’ ‘ অবৈধ দখল বন্ধ করো কালো হাত গুটিয়ে নাও,  ‘সেইভ এমডিআইসি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক অভিভাবক বলেন, ‘মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক দীর্ঘদিন যাবত স্কুলের জমি ও বিল্ডিং ব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে আমরা  এ কর্মসূচি পালন করেছি। বিশেষ করে আশুলিয়াতে ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকার পরও অনভিপ্রেতভাবে ইউজিসির মাধ্যমে স্কুলের জমিকে স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা দেয়। স্থায়ী ক্যাম্পাসের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। স্কুলের খেলার মাঠে কনভোকেশন করার অপচেষ্টা করছে। 

অভিভাবকরা আরও বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইউনিভার্সিটি ও স্কুল কর্তৃপক্ষ আইন বহির্ভূত ও অবৈধ দখল বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যে কোন পরিস্থিতির জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দায়ী থাকবে না বলে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। 

এর আগে অভিভাবকরা বলেন, আমরা জানি মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ যে জমির উপর প্রতিষ্ঠিত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নগর পরিকল্পনায় জায়গাটি স্কুল ল্যান্ড হিসাবে দেখানো আছে। মানারাত ট্রাস্ট রাজউক এর সঙ্গে এখানে স্কুল প্রতিষ্ঠায় চুক্তিবদ্ধ।

চুক্তির ২২ নম্বর শর্ত মোতাবেক মানারাত ট্রাস্ট এই জমি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে (মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি) দান করা বা বিক্রি করার অধিকার লিজ গ্রহণকারী হিসেবে থাকবে না। এবং রাজউক মানারাত ট্রাস্ট এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকা অবস্থায় অন্য কারো সঙ্গে এই জমি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করতে পারে না। তাই গুলশানের এর  ডিপ্লোম্যাটিক জোন এ স্কুলের জন্য এই নির্ধারিত জমিতে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থানান্তরের প্রচেষ্টা আইনানুগ এবং এখানকার অধিবাসীদের জন্য কল্যাণকর নয়।

এমতাবস্থায়, এই প্রতিষ্ঠানটির সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে এবং প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের জমি নিয়ে চলমান উদ্বেগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমরা বিনীত অনুরোধ করেন অভিভাবকবৃন্দ।

জানা যায়, ঢাকার গুলশান এলাকায় রাজউক কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমির উপর মানারাত ট্রাস্ট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (MDIC) ১৯৭৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৪৪ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। প্লে গ্রুপ থেকে এ লেভেল পর্যন্ত ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে দুটি পৃথক শাখা বালক শাখা এবং বালিকা শাখা আছে। আছে বিশাল দুটি খেলার মাঠ। আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের সকল সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ  এই স্কুলটি। বর্তমানে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। 

মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের একাংশে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ২০০২ সাল থেকে অস্থায়ীভাবে তাদের শিক্ষাকার্যক্রম চালাচ্ছিলো। ইতোমধ্যে,   বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য উপর্যুপরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য নির্দেশনা দেয়। উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারি আশুলিয়ার স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। অতএব নিষ্পত্তিকৃত একটি বিষয় নিয়ে এবং আইন বহির্ভূতভাবে জমি দাবি করার বিষয়টি কোনভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।

 


এনএনবিডি ডেস্ক :

মন্তব্য করুন