• , |
  • ঢাকা, বাংলাদেশ ।
সর্বশেষ নিউজ
* সমমনাদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক : রোডমার্চ, লংমার্চ ও সমাবেশের আসছে * আদালতের রায়ের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই: কাদের * রোববার কোটা বিরোধীরা সড়কে নামলেই কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার * পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হারলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী * রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে ইতিবাচক মিয়ানমার : পররাষ্ট্রমন্ত্রী * বাংলাদেশ সব দিক থেকেই ডুবে গেছে : আমীর খসরু * আবারো মিয়ানমারের শতাধিক সেনা ও বিজিপি সদস্য পালিয়ে এসেছে টেকনাফে * শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তি কর্মসূচী ঘোষণা শিক্ষার্থীদের * অ্যান্ডারসনের বিদায়ী টেস্টে ইংল্যান্ডের দাপুটে জয় * রাবি শিক্ষার্থীদের রেললাইন অবরোধ

প্রবাসী আয়ের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ

news-details

ছবি: সংগৃহীত


বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রবাসী আয় নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। আমাদের প্রবাসী শ্রমজীবীরা নানা সমস্যা ও জটিলতার মধ্যে থাকার পরও রেমিটেন্স পাঠিয়ে সুসংবাদ দিচ্ছেন। তবে বছরের মাঝামাঝি পর্যায়ের সংবাদ অনেকটা অপ্রত্যাশিত। বিশ্ব শ্রমবাজারে বর্তমান যে অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেক্ষেত্রে দেশের প্রবাসী আয়ের হারকে যথেষ্ট ভালো বলা যায়।

গত জুনের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ব্যাংকের মাধ্যমে ১২৬ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠান। যা জুনে ২০৫ কোটি ২০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। ২৮ থেকে ৩০ জুন এই ৩ দিনে দেশে প্রবাসী এসেছে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে পুরো মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ২৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত বছরের জুনে মোট ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের ২২৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেছেন, মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর এক লাফে ৭ টাকা বাড়িয়ে ১১৭ টাকা নির্ধারণ করার পর থেকে বৈধ পথে প্রবাসী আর বাড়তে থাকে। তবে নথিপত্রে ডলারের দাম ১১৭ টাকা হলেও ব্যাংকগুলো ১১৮ থেকে ১১৯ টাকা বলে দিচ্ছে। সেটি প্রবাসীদের কাছ থেকে তত বেশি ডলার পাচ্ছে। এসব ব্যাংক আবার বেশি দামে অন্য ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে। তাতে আমদানিকারকদের বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও মাঝেমধ্যে এসব ব্যাংক থেকে ডলার কিনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায়।

জুনের শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭১৫ কোটি ডলারের। রিজার্ভ বেড়ে যাওয়ার পিছনে স্থানীয় ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ও ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাতের সূত্র থেকে জানা গেছে। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে পরিমাণ শ্রমিক রয়েছে সেই তুলনায় প্রবাসী আয় যথেষ্ট কম। প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য হলো বাংলাদেশের শ্রমিকদের বেশিভাগই অযোগ্য, অদক্ষ। সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা নাই, কারিগরি প্রশিক্ষণও নেয়নি। পাশাপাশি আমাদের দেশের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ভাষা জ্ঞান একদমই নেই। যার ফলে কাজের মান, দক্ষতা ও মূল্যায়নের দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি। তুলনামূলক আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী শ্রমিকরা বিশ্বের সকল দেশ থেকে এভাবে কম আয়ের কর্মী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সারা বিশ্বের ১১৬টি দেশে বাংলাদেশী শ্রমিক থাকলেও রেমিটেন্স অনেক কম। চলতি বছরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এদেশের শ্রমিকদের অনুপ্রবেশ ছিল কম। 

সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যে পরিমাণ রেমিটেন্স আসা দরকার তার অর্ধেক আসলেও দেশের বাজেটের অর্ধেক অর্থের যোগান সম্ভব ছিল। কিন্তু আজ অদক্ষতা, অযোগ্যতার জন্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দায়ী। দক্ষতার অভাবে ৯০ শতাংশ শ্রমিক আজ বিশ্ব শ্রমবাজারে অবহেলিত। তারা না পারে দেশে ফিরে আসতে। না পারে প্রয়োজনীয় কাজ করে পরিবার ও দেশের চাহিদা পূরণ করতে। এদেশের মানুষ প্রবাসী ভাইদের প্রতি অর্থউপার্জনের ব্যাপারে সবার যথেষ্ট উৎসাহ, ব্যাপক পরামর্শ থাকলেও, তাদের ব্যক্তিগত মানোন্নয়ন তথা দক্ষতার বিষয়ে কেউ তাদের পরামর্শ দেয় না। যে পরিমাণ প্রবাসী রয়েছে, সত্যিকারে তাদের কর্মস্থল ও যোগ্যতা যদি সমন্বিত হয়; তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায়ও প্রবাসী আয় বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি হতো। এ ব্যাপারে ব্যক্তি, সমাজ, পরিবার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে এগিয়ে আসা দরকার। দেশের বেকার যুবকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মেধা যোগ্যতাকে যথার্থ দক্ষতায় রূপান্তর করে তাদের হাতকে কর্মের হাতিয়ারে পরিণত করা দরকার।

 


আবুল কালাম আযাদ

মন্তব্য করুন