• , |
  • ঢাকা, বাংলাদেশ ।
সর্বশেষ নিউজ
* প্রচণ্ড মাথাব্যথা হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষণ * চলচ্চিত্র পরিচালক শফিক হাসান গ্রেফতার * উপনির্বাচনের ফলাফল: মহাজোট ৪, জাতীয় পার্টি ১, স্বতন্ত্র ১ * জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কিল-বেইজড কোর্সের ভর্তি কার্যক্রম শুরু * সাজা শেষে ভারত থেকে ফিরলেন ৩ বাংলাদেশি নারী * বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি, আপত্তি জানিয়ে আদানির নামে কলকাতায় মামলা * মিয়ানমারে জরুরি অবস্থার সময় বাড়াল জান্তা * চ্যাটজিপিটির লেখা সনাক্ত করতে সফটওয়্যার চালু * ইবি শিক্ষার্থী সানির লেখা উপন্যাসের মোড়ক উন্মোচন * যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির ট্যাঙ্ক ধ্বংস বা জব্দ করতে পারলেই ৫০ লাখ রুবল পুরস্কার

ডেড লাইন ১০ ডিসেম্বর:মহাসমাবেশ রুপ নিতে পারে মহাঅবস্থানে

news-details

ফাইল ছবি


আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশে এখন চলছে টান টান উত্তেজনা।কি হতে যাচ্ছে ঐদিন দেশে ? তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ জনগণ সবার মনেই প্রশ্ন। আসলেই কি দেশে ঐদিন কিছু ঘটতে যাচ্ছে?

১০ ডিসেম্বর ঘিরে উত্তেজনারেএই সূত্রপাত হয় গত ৮ অক্টোবর। ওই দিন রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক আলোচনা সভায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, 'আগামী ১০ ডিসেম্বরের পরে দেশ চলবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায়।'

 এর এক দিন পর দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, 'শিগগিরই তারেক রহমান দেশে আসবেন।' তাঁদের এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার পর থেকে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন। ১০ ডিসেম্বর রাজপথে সতর্ক পাহারার থাকবেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ ধরনের পাল্টা পাল্টি বক্তব্যই জন্ম দিয়েছে উত্তেজনার।দেশবাসির আগ্রহের কারণও দাড়িয়েছে সেখান থেকেই।

স্বয়ং সরকার প্রধান ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি হুমকি দিয়েছেন এই বলে যে,বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের নেত্রীকে(খালেদা জিয়া) আবার জেলে পাঠানো হবে।

ওদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলে মরিয়া হয়ে বিএনপি নীতি বিবর্জিত রাজনীতি ও সন্ত্রাসী পন্থা বেছে নিয়েছে।’ আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরের জনসভায় গণমানুষের ঢল আবারও প্রমাণ করেছে দেশবাসী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি আস্থাশীল। অথচ বিএনপি নেতারা বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন ও গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে লাগাতারভাবে চিরাচরিত মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনগণের সাড়া না পেয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতারা পাগলের প্রলাপ বকছে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘একদিকে বিএনপি দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনমনে ভীতি সঞ্চার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ এবং নির্বাচন বানচালের নামে ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে পেট্রোল বোমা মেরে শতশত নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে বিএনপি, তাই সঙ্গত কারণেই বিএনপি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংগঠন।’ 

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপিকে মহাসমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে সরকার। তবে মহাসমাবেশের জন্য নয়াপল্টনই বিএনপির 'পছন্দ'। দলটির নেতারা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই মহাসমাবেশ করার ব্যাপারে অনড়।দলের অন্যতম নীতিনির্ধারক ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন আজ শুক্রবার স্পষ্ট করে বলেছেন যে নয়াপল্টনস্থ  কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই মহাসমাবেশ হবে।এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর চিঠিও দিয়েছে বিএনপি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরঘাটে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, 'বিএনপির রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। শর্তসাপেক্ষে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো যাবে না। প্রতিবন্ধকতা ও জনদুর্ভোগ করা যাবে না।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, 'নয়াপল্টনে মহাসমাবেশের অনুমতি চেয়েছি। এর আগেও নয়াপল্টনে সমাবেশ হয়েছে। এবারও সেখানে শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ করতে চাই। আমরা এখনও আশাবাদী নয়াপল্টনেই সমাবেশের অনুমতি পাব।'

দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী জানান, বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চায়নি। শুধু নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুমতি চেয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরঘাটে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, 'বিএনপি নিয়মতান্ত্রিককভাবে গঠনমূলক রাজনীতি করবে। এখানে আমাদের বাধা দেওয়ার কিছু নেই। তারা যদি নিয়ম ভেঙ্গে কিছু করে, তখন আমাদের অবজেকশন থাকে। সেটি আমরা সব সময় বলে আসছি। তাদের আমরা কখনোই মানা করিনি, তারা সারাদেশেই মিটিং করছে, সমাবেশ করছে।'

তিনি বলেন, 'ঢাকার সমাবেশেও আমরা মানা করিনি। আমরা শুধু তাদের আশঙ্কার কথাগুলো বলেছি। আপনারা ২৫-৩০ লাখ লোক নিয়ে আসবেন, এই লোকগুলো কোথায় বসাবেন? কোথায় থাকবেন তাঁরা? পুরো ঢাকা অচল করে দেবেন আপনারা। আমরা তাঁদের বলেছি, বড় কোনো জায়গায় যান। সর্বশেষ বিএনপির একটি দাবি ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আমাদের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য ডিএমপি কমিশনারকে বলে দেওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও তাই। তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হবে, তাঁরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সভাটি করতে পারবেন।'

এদিকে নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ব্যাপারে বিএনপির অনড় অবস্থানের ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল রাতে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, 'শর্তসাপেক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে দেওয়ার বিষয়টি চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। যেখানে তাঁরা অনুমতি পাবেন সেখানে তাঁদের সমাবেশ করতে হবে। আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। কী কী শর্ত দেওয়া হবে এসব নিয়ে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।'

এদিকে গতকাল চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'বিএনপির ঢাকার সমাবেশ নয়াপল্টনেই হবে। এখানে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই।'

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, 'নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে অনুমতি চেয়েছি। অনুমতি দিলেও ওখানে সমাবেশ করব, না দিলেও সমাবেশ করব সেখানে।'

গত ১৫ নভেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতির জন্য ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে দেখা করেন দলটির নেতারা। ওই সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি বিকল্প ভেন্যুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলেননি বিএনপি নেতারা। তবে বিকল্প হিসেবে আরও তিনটি স্থানের বিষয়ে পরিকল্পনা নেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আরামবাগ মোড় পরিদর্শনও করেন। তবে এসব বিকল্প ভেন্যুর তালিকা প্রশাসনে দেননি। এখন নয়াপল্টনের ব্যাপারে বিএনপি নেতারা তাঁদের বক্তব্যে অনড় অবস্থান দেখাচ্ছেন।

গত সোমবার গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাবেশের ভেন্যুর স্থান নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান। তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিভাগীয় সমাবেশ ঘোষিত স্থানেই হবে এবং নির্দিষ্ট দিনেই হবে। এর পরের দিন মঙ্গলবার নয়াপল্টনে এক সমাবেশেও তিনি একই বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনেই মহাসমাবেশ হবে। এটি জনগণের ঘোষণা। ওইদিন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেই সমাবেশ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

একটি সমাবেশকে ঘিরে কেন এত উত্তেজনা? পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে,অন্য সময়ের সমাবেশের মত ১০ ডিসেম্বরকে দেখছেনা সরকার।তাদের আশঙ্কা যে,বিএনপি সমাবেশ শুরু করবে বটে কিন্তু সরকারের পদত্যাগের দাবিতে তারা  অনঢ় থেকে সমাবেশের স্থান ত্যাগ নাও করতে পারে।

এমন হতে পারে যে, একদফা দাবিতে তারা মহাসমাবেশকে মহাঅবস্থানে পরিনত করতে পারে।গোয়েন্দা রিপোর্ট এমন একটি বার্তা দেয়ার কারণে সরকারি মহলে একটা ভীতির সঞ্চার হতে পারে। তাই অন্য সময়ের সমাবেশের মত ১০ ডিসেম্বরকে হালকাভাবে নিচ্ছেনা সরকার।

 

শহীদুল ইসলাম

মন্তব্য করুন