• , |
  • ঢাকা, বাংলাদেশ ।
সর্বশেষ নিউজ
* দেশের ২৪ শতাংশ বাসের ফিটনেস নেই : টিআইবি * বগুড়ায় নিখোঁজ ছাত্রের লাশ মিলল গোয়াল ঘরে * জলবায়ু উদ্বাস্তুদের রক্ষায় আইনি সংজ্ঞা প্রয়োজন * মেজর হাফিজকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ * এখনো নেভেনি এস আলম সুগার মিলের আগুন * রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে হোটেল-রেস্তোরাঁয় অব্যবস্থাপনা, আটক ২৪ * গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ * শিক্ষক রাজনীতি বন্ধে আচরণবিধি তৈরি করছে মন্ত্রণালয় * উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিলে আজীবন বহিষ্কার : বিএনপি‘র হাইকমান্ড * ইউক্রেনে মার্কিন আব্রামস ট্যাংক ধ্বংস করে রুশ সেনাদের কৌতুক

তাদের ফিরে আসাই হোক পরিবারের ঈদ

news-details

এনএনবিডি


বাংলাদেশের দিগন্ত কালো মেঘের ছায়ায় যেন ঢেকে গেছে। প্রাণোচ্ছল আলোকিত প্রভাত পাওয়া যেন সকলের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। অপরাধ না করে অপরাধী বানানোর সকল আয়োজন যখন চারদিক আচ্ছন্ন করে রাখছে, তখন অনিশ্চয়তা তো কাটার সুযোগ থাকছে না। এদেশে অপরাধের সংজ্ঞা পাল্টে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় সবকিছু মূল্যায়িত হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই এরূপ পরিস্থিতি কাম্য নয়। 

দেশের রাজনীতি ও রাজনীতির ছায়ায় এমন কিছু ঘটনা ঘটে যার মূল্য চোকাতে পারছে না নাগরিকরা। ব্যবসায়িক, পারিবারিক সমস্যাগুলোকেও রাজনীতিরে মোড়কে মিশিয়ে এক পক্ষকে ঘায়েল করে আরেক পক্ষ স্বার্থ হাসিল করার নজির অহরহ। দেশের এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে করা হচ্ছে গুম, আটক কিংবা হত্যা পর্যন্তও। এমন অনেক ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ভুক্তভোগী পরিবার বিচারও পাচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, আইনজীবী এমনকি সামরিক বাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারাও ভুক্তভোগী হয়েছেন। হত্যার ঘটনা গুলোর বেশিরভাগ ঘটছে শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীতে। নদীগুলো যেন অজ্ঞাত মৃত্যুর ডাম্পিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বেশ আলোচিত হচ্ছে। ডয়চে ভেলের একটি প্রতিবেদনে র‌্যাবের হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও কড়া ভাষায় কথা বলেছে। 

রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা, গুম এবং গ্রেফতার-হয়রানির ঘটনাগুলো চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে বা রাজনৈতিক পরিচয়কে হাতিয়ার করে প্রশাসন চাঁদাবাজিও করছে বলে নানা অভিযোগ উঠছে।

রাজনৈতিক কারণে গুম হওয়ার সংখ্যাটা ক্রমেই বাড়ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন সময়ের গুম হওয়ার ঘটনা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম গুম করা হয় বিএনপি নেতা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর চৌধুরী আলমকে। এরপর ২০১২সালে গুম করা হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ওয়ালী উল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসকে। গুমের শিকার হন ২০১৩ সালে শিবির নেতা জাকির, বিএনপি নেতা ও সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী। এরপর একে একে ব্যরিস্টার আরমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান আল আযমীকে গুম করা হয়। তাদেরকে বাড়ি থেকে কিংবা গণপরিবহন থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের হদিস এখনো প্রশাসন দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করে আসছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও রাজনৈতিক দলগুলো। এমনকি পরিবারগুলোকেও নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগও তুলেছে গুম হওয়া পরিবারের সদস্য ও মায়ের ডাক ফাউন্ডেশনের সানজিদা ইসলাম।

এছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ওপর নিয়মিত দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে ধরা হয়ে থাকে। ক্ষমতার পালাবদলে জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলকে কোণঠাসা করতে নতুন নতুন আইন প্রণয়নসহ মামলার জালে বিরোধীদের আটকানোর কৌশল প্রয়োগ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগমা খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে, জামায়াত নেতাদর দণ্ড ও কারাগারে আটকে রেখে দলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। 

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রায় দেড় লাখ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পরেই মামলার সংখ্যায় অবস্থান করছেন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সর্বশেষ তথ্যমতে দলটির বেশকিছু কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দলটির আমির, নায়েবে আমীর সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কয়েকটি মহানগরীর আমিরসহ সারাদেশে শীর্ষ অনেক নেতাই কারাগারে আটক রয়েছেন। একইভাবে দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কারাগারে আটক রয়েছেন। 

এদিকে বুধবার(১৯ এপিল) বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছে যে সরকার বিএনপির নেতাদের সাজা দিয়ে আগামী নির্বাচনে অযোগ্য করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরার তালা-কলারোয়া আসনের সাবেক এমপি বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ চারজনকে যাবজ্জীবন ও ৪৪ জনকে সাত বছরের  কারাদণ্ড  দেয়া হয়েছে।

দেশের রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ঈদুল ফিতরের পর রাজনীতির মাঠ দখলের জোর চেষ্টা চালাবে বিরোধীদল ও ক্ষমতসীনরা। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীনরা মাঠ দখলে রাখতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে পুরাতন মামলাগুলো সামনে আনছেন। নতুন মামলাও দিচ্ছেন।  আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনীতির রসায়ন ইতোমধ্যে জটিল হয়ে পড়েছে। কারণ বিরোধী দল কোনোভাবেই এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অপরদিকে সরকারি দলও সংবিধানের কথা উল্লেখ করে নির্বাচন আয়োজনে অনড় থাকার কথা বলে আসছেন। 

অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের দৃঢ় সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর জন্য অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলেও কঠোর বার্তা দিয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ ২৪ এপ্রিল শেষ হলে তার স্থলাভিসিক্ত হচ্ছেন মো. সাহাবুদ্দিন। নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে বলেছেন স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংবিধান অনুযায়ী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তার পক্ষ থেকে যা সহযোগিতা করার আছে তা তিনি করবেন। জানা যায় তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিগত নির্বাচনগুলো যেভাবে হয়েছে সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী নির্বাচন কেমন করবেন তা দেখার অপেক্ষা হয়তো। 

নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা গুম ও গ্রেফতার বাণিজ্য বা গ্রেফতার করে হয়রানি কতটা বাড়বে ইতোমধ্যে মানুষের সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে কোনো প্রাণ যাতে না ঝড়ে পড়ে তা নিশ্চিত করা ক্ষমতাসীন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে করতে হবে। যে সকল মানুষকে এখনো গুম করে রাখা হয়েছে তাদেরকে দ্রুত মুক্তি দেয়া দরকার। তাদের ফিরে আসায় পরিবারের ঈদ হোক।গুম করা নাগরিকদের পরিবারগুলোতে ঈদের আনন্দ বলতে কিছু নেই তাদের অনুপস্থিতিতে। নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় যাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকবে তাদেরকে অবশ্যই প্রচলিত আইনে বিচার ও সাজা দেয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু গুম করে মানবাধিকার হরণের সুযোগ নেই। ঈদ হোক সবার, ঈদ হোক মানবতার আনন্দের।


আবু জায়েদ আনসারী

মন্তব্য করুন