• , |
  • ঢাকা, বাংলাদেশ ।
সর্বশেষ নিউজ
* চলতি মাসে ফের হামলা শুরু করতে পারে রাশিয়া: ইউক্রেন * পূর্বাচলে আজ মেট্রোরেলের ডিপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী * প্রচণ্ড মাথাব্যথা হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষণ * চলচ্চিত্র পরিচালক শফিক হাসান গ্রেফতার * উপনির্বাচনের ফলাফল: মহাজোট ৪, জাতীয় পার্টি ১, স্বতন্ত্র ১ * জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কিল-বেইজড কোর্সের ভর্তি কার্যক্রম শুরু * সাজা শেষে ভারত থেকে ফিরলেন ৩ বাংলাদেশি নারী * বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি, আপত্তি জানিয়ে আদানির নামে কলকাতায় মামলা * মিয়ানমারে জরুরি অবস্থার সময় বাড়াল জান্তা * চ্যাটজিপিটির লেখা সনাক্ত করতে সফটওয়্যার চালু

আন্তর্জাতিক

জটিল হচ্ছে ইউক্রেন পরিস্থিতি

news-details

ছবি-প্রতীকী


রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। রাশিয়া চলমান যুদ্ধকে যতটা গুরুত্বহীন মনে করেছিল বাস্তবে কিন্তু তা হয়নি। কারণ, ধারণামত তা মোটেই একতরফা হয়নি বরং প্রায় সমান তালেই আগ্রাসনের জবাব দিয়ে যাচ্ছে সামরিক শক্তিতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ইউক্রেন। চলমান যুদ্ধ দীর্ঘ পরিসরে হওয়ায় এবং পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অবস্থা এতোই জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আগামী দিনে যুদ্ধব্যয় নির্বাহও দেশটির জন্য সহজসাধ্য হবে বলে মনে হচ্ছে না। এমতাবস্থায় দেশটি আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পতির চাইছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু তাদের এই কথায় আশ^স্ত হতে পারছে না আন্তর্জাতিক মহল।

রাশিয়া বারবার শান্তি আলোচনা ও যুদ্ধ বিরতির কথা বললেও ইউক্রেন তার মিত্ররা তা রীতিমত সন্দেহের চোখেই দেখছে। এমনকি সম্প্রতি মস্কোর সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিষয় অর্থহীন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা। গত ১৭ জানুয়ারি কানাডিয়ান টেলিভিশন চ্যানেল সিবিসি নিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ‘এটি সম্পূর্ণ অর্থহীন, রাশিয়া যা বলে তা করবো না। এর চেয়েও বড় কথা আমরা এটি দেখে আনন্দিত যে, আরও অনেক দেশ তাদের সঙ্গে একমত হচ্ছে না

কুলেবা আরও বলেন, পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডিনিপ্রোতে সাম্প্রতিক হামলায় ভীত হয়ে কিয়েভ আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি মনে করেন, ‘আপনি শুধু হাত তুলে বলতে পারবেন না, এটাই আমরা আত্মসমর্পণ করছি। কারণ আপনি আবাসিক ভবনে আঘাত করছেন, যেখানে বাবা-মা ও শিশুদের হত্যা করছেন। আমরা যদি আত্মসমর্পণ করি, তবে এটি আরও খারাপ হতে পারে

প্রসঙ্গত সম্প্রতি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব ইউক্রেনের শহর ডিনিপ্রোর একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আঘাত হানে। এ ঘটনায় অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি মানুষ। প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেনের যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত। তবে কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে আলোচনা করতে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে পুতিনের বিরুদ্ধে।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতির প্রেক্ষাপটে বিশ^ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশ নেয়া বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দেশটির ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কা বিশ্বনেতাদের কাছে এসব চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন বলে আল জাজিরার খবরে জানানো হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া ভাষণেও রুশ আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করেছেন ওলেনা জেলেনস্কা। তিনি তার ভাষণে বলেন, কিছু রাষ্ট্র তার দেশের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসনের অবসান ঘটাতে তাদের প্রভাব ব্যবহার করতে ব্যর্থ হচ্ছে। যা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত।

ওলেনা জেলেনস্কা বলেন, আপনারা সবাই জানেন যে রুশ আগ্রাসন কখনও ইউক্রেনের সীমান্তে থেমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল না। এই সংঘাত আরও অগ্রসর হতে পারে এবং ইউক্রেন হেরে গেলে আরও বিস্তৃত সংকট দেখা দিতে পারে। এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেনিস মনাস্টিরস্কিসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। গত বুধবার সকালে কিয়েভের পূর্ব উপকূলে একটি কিন্ডারগার্টেনের পাশে ওই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট।

ওই হেলিকপ্টারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডেনিস মনাস্টিরস্কিসহ আরও ৮ জন ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফার্স্ট উপমন্ত্রী এবং রাজ্য সচিবও নিহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যখন হেলিকপ্টারটি ব্রোভারির শহরতলিতে নেমে আসছিল এমন সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে অন্ধকার এবং কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল। প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হেলিকপ্টারটি একটি আবাসিক ভবনের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে কিন্ডারগার্টেনে আঘাত করে। বিষয়টিকে রুশ নাশকতা হিসাবে বিবেচনা করছে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ। যা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সার্বিক দিক বিবেচনায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। মাঝে মাঝে ক্রেমলিন কর্তৃপক্ষ যুদ্ধ বন্ধে বহুপাক্ষিক আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির কথা বললেও ইউক্রেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেসব কথায় আশ^স্ত হতে পারছে না বরং বিষয়টি এক ধরনের যুদ্ধ কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় চলমান এই যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। অন্যথায় দিনে দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

 


সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

মন্তব্য করুন