ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

এনএনবিডি ডেস্ক

১৫ মার্চ ২০২২, ১৩:০৩

হোসেনি দালানে বোমা হামলা : ২ জনের কারাদণ্ড বাকিরা খালাস

26327_nnbd-555555.jpg
পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে বোমা হামলার মামলায় দু’জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও বাকি ছয় আসামি খালাস দিয়েছেন আদালত।

কারাদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন আরমান ও কবির হোসেন। আরমানকে ১০ বছর ও কবিরকে সাত বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে ১ মার্চ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেছিলেন বিচারক।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে হোসেনি দালান এলাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে বোমা হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন জেএমবি। এ ঘটনায় একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন।

এ ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় এসআই জালাল উদ্দিন মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি চকবাজার থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশ- ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ডিবি দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিউদ্দিন শেখ ২০১৬ সালের এপ্রিল জেএমবির ১০ সদস্যকে আসামি করে অভিযোগপত্র অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সে বছর নভেম্বরে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা আসামিরা হলেন ওমর ফারুক মানিক, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ, শাহজালাল মিয়া, চান মিয়া, কবির হোসাইন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, আবু সাঈদ রাসেল ওরফে সোলায়মান ওরফে সালমান ওরফে সায়মন, আরমান ওরফে মনির, মাসুদ রানা, জাহিদ হাসান। এদের মধ্যে জাহিদ হাসান এবং মাসুদ রানাকে তাদের আইজীবীরা ‘নাবালক’ দাবি করায় জন্মসনদ পরীক্ষা করে এই দু’জনকে শিশু হিসেবে আখ্যায়িত করে আদালত। পরবর্তীতে তাদের শিশু উল্লেখ করে এ মামলায় আলাদা দুটি সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার চলছে শিশু আদালতে।

অভিযোগপত্রে এই দু’জনের নাম বাদ পড়ায় বাকি আট আসামির বিষয়ে রায় দেন আদালত। ২০১৭ সালের ৩১ মে এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ আসে। পরে মামলাটি ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৮ সালের ১৪ মে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলি হয় এ মামলা।

আসামিদের মধ্যে আরমান, রুবেল ও কবির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটিতে ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩১ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, হোসেনি দালানে হামলায় জেএমবির ১৩ জন জড়িত ছিল। এদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানের সময় তিনজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান।

অভিযোগে বলা হয়, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আবদুল্লাহ বাকি ওরফে নোমান ছিলেন হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। হামলার আগে ১০ অক্টোবর তারা বৈঠক করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। বোমা হামলার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন জাহিদ হাসান, আরমান ও কবির হোসেন। কবির ও জাহিদ ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
হামলার পর আশ্রয় নিতে কামরাঙ্গীর চরে বাসা ভাড়া করেন আরমান ও রুবেল ইসলাম। আরমান ঘটনাস্থলে পর পর পাঁচটি বোমা নিক্ষেপ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

বাকি পাঁচজন চানমিয়া, ওমর ফারুক, আহসান উল্লাহ, শাহজালাল ও আবুসাঈদ হামলার চিত্র ভিডিও করা ছাড়াও হামলায় উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

আসামি মাসুদ রানারও হামলায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। তবে আগের দিন গাবতলীতে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়ে পুলিশের একজন এএসআইকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হন মাসুদ রানা।