ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

মুতাছিম বিল্লাহ

১৪ মার্চ ২০২২, ১৭:০৩

ক্যান্সার থেকে সুরক্ষায় নতুন জাতের ভূট্টা

26304_9632145.JPG
ভূট্টা ক্ষেতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. রুহুল আমিন
দেশে নতুন একটি জাতের ভূট্টা নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। গবেষক দলটির মতে, তাদের উদ্ভাবিত এ জাতটি একদিকে যেমন পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ, তেমনি মানবদেহে ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।
 
গবেষণা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিটতত্ত্ব বিভাগের বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. রুহুল আমিন জানান, নতুন একটি ভূট্টার জাত নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছি। যেটিতে রয়েছে নানবিধ পুষ্টিগুণ। এছাড়া আঠারোটি অ্যামাইনো অ্যাসিড সমৃদ্ধ এই ভূট্টা রান্না করলে অ্যান্টিক্যান্সার ফেরুলিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি ঘটে। যা মানবদেহে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ভূট্টাটির প্রতিটি কব (মোচা)  মানবদেহে প্রায় ৮৬ কিলোক্যালরি শক্তি সঞ্চয় করতে সক্ষম।
 
নতুন এ জাতের ভূট্টায় অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটির প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টি ভূট্টায় পানি ৭৫.৯৬ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৯.২ গ্রাম, সুগার ৩.২গ্রাম, আঁশ ২.৭গ্রাম, আমিষ ৩.২ গ্রাম, চর্বি ১.৮ গ্রাম, ভিটামিন সি ৬.৮ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন এ , বি ১, বি ৩ থাকে।  এছাড়া মিষ্টি ভূট্টার আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি খনিজ উপাদান রয়েছে। 
 
মিষ্টি জাতের এই ভূট্টা বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ, টাঙ্গাইলে কৃষকের ক্ষেত, বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্র এবং দিনাজপুরে তুলা উন্নয়ন কেন্দ্রে ফিল্ড ট্রায়াল চলছে। এখন পর্যন্ত যেটুকু পরীক্ষা চালিয়েছি, তাতে আবহাওয়া উপযোগী হিসেবে দেখা গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিট তত্ত্ব বিভাগের বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. রুহুল আমিন- এর নেতৃত্বে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন মিয়া, প্রভাষক মিস মানসুরা আফরোজ, শিক্ষার্থী তাসফিয়া তাসনিম মুন উচ্চতর গবেষণাকর্ম  চালিয়ে যাচ্ছেন।
 
তিনি আরো জানান, দেশে উৎপাদিত বেশিরভাগ ভূট্টা গো খাদ্য এবং পোল্ট্রি ফিড হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু নতুন জাতটি জাপান, কোরিয়া, চীন, ফিলিপাইন প্রভৃতি দেশে মিষ্টি ভূট্টা হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। কোনো প্রকার প্রক্রিয়া ছাড়াই এটি কাচা বা সিদ্ধ করে চিবিয়ে খাওয়া যায়। এছাড়া সালাদ ও সবজি হিসেবে অত্যন্ত সমাদৃত এটি। 
 
এটির উৎপাদনকাল কম জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণত ভূট্টা চাষাবাদ ১১২ থেকে ১২০দিন সময় লাগে। কিন্তু নতুন এই জাতের ভূট্টা মাত্র ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। দুগ্ধ সমৃদ্ধ অবস্থায় চয়ন করার ফলে মিষ্টি ভূট্টার সুগার শর্করা স্ট্রার্চে রূপান্তর হয়। ফলে এটি গ্লুকোজ জাতীয় খাবারের বিকল্প হতে পারে।  আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো  এটি বছরের যেকোনো সময় চাষাবাদযোগ্য।
 
ভূট্টাটি বিদেশি জাত হলেও দেশের বিশাল বাজার রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশের অভিজাত হোটেলগুলোতে সালাদ হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। জাতীয় উৎপাদনের ফলে এটি একদিকে যেমন আমদানি নির্ভরতা কমাবে, তেমনি দেশের পুষ্টির চাহিদা মেটাবে। 
 
উল্লেখ্য, নতুন এ জাতের ভূট্টা নিয়ে গবেষণা কাজ ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে। যা কোরিয়ার একটি মিষ্টি জাতের ভূট্টার মডিফাইড ক্রপ। বর্তমানে টব থেকে কয়েক ধাপে বীজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ফিল্ড ট্রায়াল চলছে। যা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং কম সময়ে ফলন উপযোগী।