ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

১৩ মার্চ ২০২২, ১৬:০৩

ফের আন্দোলনে জাককাইনবি শিক্ষার্থীরা

26267_9876876.jpg
নবীন ছাত্রকে রোলিং চেয়ারে ঘুরিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় ফের আন্দোলনে নেমেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনায় প্রশাসনের যে বিচার দেখলাম তা খুবই দুঃখজনক এবং আমরা হতাশ হয়েছি। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করার দাবিতে আন্দোলন করছি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধ করা সম্ভব না।

আন্দোলনকারীরা আরো বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠু বিচার না করবে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব এবং আর কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব না।

আন্দোলন চলাকালে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক তপন কুমার সরকার, অগ্নিবীণা হলের প্রভোস্ট কল্যানাংশু নাহা, সহকারী প্রক্টর ইরফান আজিজ, আসাদুজ্জামান নিউটন ও চন্দন কুমার পাল।

এসময় তপন কুমার সরকার বলেন, আমরা তোমাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি এবং এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। তবে আইনগতভাবে অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা যায় না। সকল প্রক্রিয়া মেনেই আমরা এসব ঘটনার সমাধানের পথে আগাচ্ছি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং তারা কাজ করছে। খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার (১২ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ২০৪ নং কক্ষে নির্যাতনের শিকার হন সাগর চন্দ্র দে নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। আর অভিযুক্ত হলেন চারুকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌমিক জাহান।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সাগর জানান, শনিবার বিকেলে অগ্নিবীণা হলের ২০৪ নং কক্ষে তাকে রোলিং চেয়ারে জোর করে বসিয়ে ঘোরাতে থাকেন কক্ষটিতে থাকা সিনিয়র ছাত্র সৌমিক জাহান। এ সময় তাকে বারবার থামাতে বলছিলেন সাগর। কিন্তু তার কথায় কান না দিয়ে অনবরত চেয়ারটি জোরে ঘোরাতে থাকে। এক পর্যায়ে চেয়ারটি উল্টে গিয়ে পড়ে যান সাগর। এতে মাথায়, নাকে-মুখে মারাত্মক আঘাত পান তিনি। এ সময় দুটি দাত ভেঙে গিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় তার। তবে এ অবস্থাতেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি অভিযুক্ত শিক্ষার্থী। এমনকি সাগরের ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আটকে রাখেন সৌমিক।

ভুক্তভোগী সাগর বলেন, ঘটনার পর আমার মোবাইলটি বারবার চাইলেও আমাকে দিতে চায়নি। তবু অনেক চেষ্টার পর মোবাইলটি নিয়ে হাশর ভাইকে মেসেঞ্জারে একটি ছবি পাঠাই এবং লিখি, ভাই আমি তো শেষ, রুম নম্বর ২০৪, অগ্নিবীণা হল। তাড়াতাড়ি আসেন। তারপর ওই ভাই ৫ মিনিট পর এসে আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সৌমিক জাহানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে নির্যাতনের ঘটনায় এদিন রাতেই ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অগ্নিবীণা হল প্রশাসন। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হল প্রভোস্ট কল্যাণাংশু নাহা।