ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

শহীদুল ইসলাম

১২ মার্চ ২০২২, ১৫:০৩

নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে নাকাল সাধারণ মানুষ

26238_786547.jpg
তেল, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, হলুদ, লবণ, সাবান, দুধ ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতিতে নাকাল সাধারণ মানুষ। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের সামগ্রিক জীবন-যাত্রার খরচ বেড়ে গেছে। আবার গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির মূল্য বৃদ্ধির আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে সরকার। অথচ আয় বাড়েনি মানুষের। এ অবস্থায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ প্রমাদ গুনছে। সংসারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ঘরে ঘরে।

নিত্য প্রয়োজনীয় অতি জরুরি খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক ও লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের মানুষ আজ  দিশেহারা। গরিব ও স্বল্প আয়ের কোটি কোটি মানুষের খাদ্য গ্রহণ কমে গেছে। জনগণের একটি বড় অংশ দুই বেলাও ভালভাবে খেতে পারছে না। এ অবস্থা চলতে দিলে দেশ আবারো  ১৯৭৪ সালের মতো দুর্ভিক্ষাবস্থায় নিপতিত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল।

এর প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট আগামী ২৮ মার্চ হরতালও ডেকেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভয়াবহ এই ঊর্ধ্বগতিতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবাদ সমাবেশ, মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ দায়িত্বশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য তারা সরকারের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছে। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়-এমন অভিযোগ করে বিএনপি বলছে যে ক্ষমতাসীনরা স্বার্থের ভাগাভাগি নিয়েই ব্যস্ত। জনগণের কথা ভাবার সময় তাদের নেই।

দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরকারি মহল প্রথমদিকে বলে আসছিলেন যে, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে , দ্রব্যমূল্য তো বাড়বেই। এতে জনগণের কোন ভোগান্তি হবে না। সম্প্রতি আবার সুর পাল্টিয়ে উল্টা তারা অভিযোগ করছে যে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরা দায়ী। তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নিত্যপন্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। বিএনপি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারকেই দায়ী করেছে। তবে দায়িত্বশীল মহল মনে করে সরকার কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেনা।

এসব পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ চলতেই থাকবে। আসুন দেখি জনগণের অবস্থা কি? কয়েকমাস আগে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এতে শুধু যে গাড়ী ভাড়া বেড়েছে তা নয়, বেড়েছে সামগ্রিক পরিবহন খরচ। আর তা গিয়ে পড়েছে নিত্যপণ্যের উপর-মানে জনগণের উপর। ফলে চাল, ডাল, আটা, ময়দা, তেল, লবণ, সাবান, সোডা, গুড়া সাবান, দুধ, চিনি সবকিছুর দাম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে। তার উপর নতুন করে শুরু হয়েছে ভোজ্যতেল নিয়ে তেলেসমাতি কারবার।

আর তিন সপ্তাহ পরেই শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। বিশ্বের সব মুসলিম দেশে রমজান আসলে ব্যবসায়ীরা রোজাদারদের সুবিধার্থে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম কমিয়ে দেয়। আর আমাদের দেশে তার উল্টো রমজানকে তারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মওসুম বানিয়ে নেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এখন প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। সকালে একদাম বিকেলে আরেক দাম। পরেরদিন তো নতুন দাম। এহেন অবস্থায় জনগণের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালে মোটা চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, ২০২১ সালে ছিল ৪৫ টাকা, ২০২২ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা। আটা ছিল ২০ সালে প্রতি কেজি ২৩ টাকা, ২১ সালে ৩৩ টাকা এখন দাড়িয়েছে ৪৫ টাকা। সয়াবিন তেলের দাম ২০সালে ছিল প্রতি লিটার (বোতলজাত) ১০৫ টাকা, ২১ সালে ছিল ১৫০ টাকা, বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা। চিনির দাম ২০২০সালে ছিল প্রতি কেজি ৬৬ টাকা, ২০২১ সালে ছিল ৭৫ টাকা, এখন দাঁড়িয়েছে  ৮৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগীর যথাক্রমে ছিল কেজি ১১৫ টাকা ও ১৫০ টাকা। এখন তা ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা।

এমনিভাবে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। জনগণের কিন্তু আয় বাড়েনি, বরং করোনা মহামারির কারণে বেসরকারি চাকরিজীবিদের বেতন কমেছে। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা হয়নি। সামগ্রিকভাবে মানুষের পকেট এখন খালি। তার উপরে নিত্যপণ্যের এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ভোগান্তিকেই বাড়িয়ে তুলছে।