ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ মার্চ ২০২২, ১৭:০৩

যেভাবে বলিউড ছেড়ে ইসলামের শীতল ছায়ায় জায়রা ওয়াসিম

26208_74876.jpg
বলিউডের অন্যতম সফল অভিনয়শিল্পী জায়রা ওয়াসিম। মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিনয় শিল্পে পা রেখে জিতে নেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। কাজ করেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সাথে ‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক’ নামের চলচ্চিত্রে। আমির খানের সাথে‘ দ্য সিক্রেট সুপারস্টার’ নামের চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। সম্মাননার ঝুলিতে ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড থেকে শুরু করে রয়েছে নানা পুরস্কার।

জমকালো এমন সব সফলতার হাতছানিকে পিছনে ফেলে রঙিন জীবন ছেড়ে পরিপূর্ণ ইসলামী জীবনাচারে মনোনিবেশ করেছেন জায়রা ওয়াসিম। তার এমন সিদ্ধান্ত হতবাক করেছিল বলিউডের শিল্পীসহ সবাইকে।

২০১৯ সালের ৩০ জুনে নিজের ইনস্টাগ্রাম আইডিতে অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ সংক্রান্ত বেশ লম্বা একটা স্ট্যাটাসও দেন এই তারকা।

সোশ্যাল মিডিয়ার স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আজ থেকে পাঁচ বছর আগে আমি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যা আমার জীবনকে বদলে দেয়। বলিউডে পা দেওয়া মাত্রই আমার জন্য ব্যাপক কাজের দরজা খুলে যায়। মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু আর তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলাম আমি। হয়তো বলিউডের ঠিক আছে তবে আমি এখানকার মানুষ নয়।’

‘এ পরিচয় আমি খুশি নয় উল্লেখ করে তিনি আরো লেখেন, এমন পরিবেশে কাজ করতে চাইনা আমি। বেড়ে উঠতে চাই না এখানে। এ ধরনের পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে দেখলাম আমার ঈমানে বিঘ্ন ঘটছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে আমার কাজ সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে। বারবার নিজের সাথে লড়াই করতে গিয়ে হেরে যাচ্ছি। নিজের ঈমানকে এখানে অক্ষত রাখা সম্ভব নয় আমার। ’

তিনি আরো লিখেন, ‘কোরআনের জ্ঞানের আমার পূর্ণতা ও শান্তি খুঁজে পেয়েছি। হৃদয় যখন স্রষ্টার জ্ঞান অর্জন করতে পারে, তখন সে শান্তি খুঁজে পায়। সাফল্য-খ্যাতি, ধন-সম্পদ কিছুই মানুষের শান্তি এনে দিতে পারে না। সুতরাং আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আর অভিনয় করব না।’

জায়রা ওয়াসিমের এমন সিদ্ধান্তে বলিউডের অনেক শিল্পী নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান। কেউ কেউ তাকে শুভকামনা জানালেও অনেকেই করেছেন তিরস্কার। তবে অন্যের কথায় কান না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত ছিলেন অটল।

সম্প্রতি ওয়ান ইসলামের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাবেক সফল এই বলিউড অভিনেত্রী। সম্পূর্ণ ইসলামিক বিধান মেনে পর্দা করে তিনি বলেন, যখন আমি বলেছিলাম তখন মনে করতাম ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু করবো না। উদ্দেশ্য যদি পরিষ্কার হয়, তবে সেটাই যথেষ্ট। কিন্তু আমি একদিন গভীরভাবে ভেবে দেখলাম, আমরা যখন কাউকে ভালবাসি তখন তার পছন্দের কাজ করি। আর আমি যেহেতু আল্লাহকে ভালবাসি, তাই আল্লাহর জন্য আমার কিছু করা উচিত।

বলিউড অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিম নিজেকে বর্তমানে ধর্মীয় অনুশীলনের ব্যস্ত রেখেছেন। ২০০০ সালের ২৩ অক্টোবর কাশ্মীরের এক মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বলিউডের জমকালো ক্যারিয়ার গড়ে তা আবার ছেড়েছিলেন তিনি। অল্প বয়সে এমন গভীর আত্মোপলব্ধি অবাক করেছিল অনেক অভিনেত্রীকে।

বর্তমানে জায়রা ওয়াসিমের ইনস্টাগ্রামে দশ লাখ অনুসারী রয়েছে। যেখানে তিনি নিয়মিত কোরআনের আয়াত ও ধর্মীয় পোস্ট শেয়ার করছেন।

কেবল জায়রা ওয়াসিমই নয়, তার মতো আরো অনেকেই বলিউড, হলিউডসহ বিশ্বের নানা চলচিত্রজগৎ ও রঙিন জগৎ ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে।

এ আর রহমান

ভারতে অস্কারজয়ী বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালকদের মধ্যে একজন হলেন এ আর রহমান। সঙ্গীত জগতে সারা বিশ্বে তিনি এক নামেই পরিচিত। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তার পূর্বের নাম ছিল এ এস দিলীপ কুমার। সুফি সঙ্গীতের প্রেরণা থেকেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন এ আর রহমান। ১৯৮৪ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে দিলীপ কুমার থেকে ‘আল্লা রাখা রহমান’ অর্থাৎ এ আর রহমান এ পরিণত হন তিনি।

ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনি

৭০’র দশকের সবচেয়ে সফল বলিউড তারকা যুগল ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনি। হেমার জন্ম একটি হিন্দু তামিল পরিবারে। প্রেমিক ধর্মেন্দ্রও হিন্দু ছিলেন। কিন্তু তাদের সম্পর্ক বিবাহে রূপ নিতে পারছিল না। কেননা ধর্মেন্দ্র ছিলেন বিবাহিত। তার প্রথম বিয়ে করা স্ত্রীর নাম ছিল প্রকাশ কর। হিন্দু শাস্ত্রমতে প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে না। আর বিয়ের জন্য তাদের সামনে একটি পথই খোলা ছিল, সেটি হল ধর্মান্তরিত হওয়া। দু'জনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭৯ সালের ২১ আগস্ট ইসলাম ধর্ম মতে বিয়ে করেন হেমা মালিনি ও ধর্মেন্দ্র। বিয়ের পর হেমার নাম বদলে রাখা হয় আয়েশা আরও ধর্মেন্দ্রর নাম রাখা হয় দেলওয়ার খান।

মমতা কুলকার্নি

৯০’র দশকে বেশ কয়েকটি হিন্দি সুপার হিট ছবির নায়িকা মমতা কুলকার্নি। অভিনয়ের পাশাপাশি তার সৌন্দর্যেও দ্যুতি ছড়িয়েছে। মমতা কুলকার্নি হঠাৎ করেই পর্দা থেকেই উধাও। পরবর্তীতে কারণ হিসেবে দেখা গেছে ২০১৩ সালে মমতা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক মুসলিমকে বিয়ে করেন। বর্তমানে স্বামীকে নিয়ে কেনিয়ার নাইরোবিতে বসবাস করছেন তিনি।

শর্মিলা ঠাকুর

বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেত্রীদের তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৩ সালে পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত হন এ অভিনেত্রী। জীবনের এক পর্যায়ে ধর্ম পরিবর্তনের পথ বেছে নেন এ অভিনেত্রী। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি মনসুর আলি পতৌদিকে বিয়ে করেন। শর্মিলার তিন সন্তানের সাইফ আলি খান, সোহা আলি খান, সাবা আলি খান প্রত্যেকেই ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তার নামকরণ করা হয় আয়েশা।

অমৃতা সিং

জন্মসূত্রে শিখ ধর্মের অনুসারী ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী অমৃতা সিং। ১৯৮৩ সালে ‘বেতাব’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর তার অভিনেত্রী ‘সানি’ ‘মারদ’ ‘সাহেব’ ছবিগুলো দারুণ ব্যবসা সফল হয়। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে অভিনেতা সাইফ আলি খানকে বিয়ে করেন।

হ্যান্স রাজ হ্যান্স

জনপ্রিয় ভারতীয় গায়ক হ্যান্স রাজ হ্যান্স। হিন্দু ধর্মের অনুসারী হলেও নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। মূলত সুফি সঙ্গীতের প্রতি আকৃষ্টতা থেকেই ইসলাম ধর্মের প্রতি দুর্বলতা তৈরি হয় তার। পরবর্তীতে ইসলামের ইতিহাসের ওপর ব্যাপক পড়াশোনা করেন তিনি। ধর্ম পরিবর্তনের পর মদিনা সফরের পরিকল্পনা করছেন বলেও জানা গেছে। উল্লেখ্য, ‘আজা নাচলে’ ‘দিল টুটে টুটে’ প্রভৃতি জনপ্রিয় গানের গায়ক হ্যান্স।

জুভান শংকর রাজা

কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী ইলাইয়া রাজার পুত্র জুভান শংকর রাজা। কিন্তু শুধু পিতার নামেই পরিচিত নন জুভান। কম বয়সী গীতিকার হিসেবে তার খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই প্রথম গানের কম্পোজ করেন তিনি। জুভানের পিতা ইলাইয়া রাজা ছিলেন কট্টর হিন্দু। মূলত কোরআন পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম ধর্ম চর্চা শুরু করেন। পারিপারিকভাবে তার ধর্ম পরিবর্তনের বিষয় মেনে না নিলেও তিনি মুসলিম ধর্মে পথই বেছে নিয়েছেন।

আয়েশা টাকিয়া

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আয়শা টাকিয়া। পারিবারিকভাবে ভিন্ন ধর্মে বেড়ে উঠেছেন এ অভিনেত্রী। বাবা ছিলেন হিন্দু আর মা ছিলেন ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ান। হিন্দু হয়েও আয়েশা টাকিয়া দীর্ঘ সময় প্রেম করেছেন মুসলিম প্রেমিক ফারহান আজমির সঙ্গে। এরপর ২০০৯ সালে ওই জুটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের আগেই আয়েশা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। যদিও তিনি কখন ওই ধর্মান্তরের বিষয়টি প্রকাশ করেননি। তবে তার ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। মিকাইল আজমি নামে তাদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে।