ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

আব্দুল খালেক

১০ মার্চ ২০২২, ১৬:০৩

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে ইসলামপন্থি দল!

26166_nnbd-65443333.jpg
বাঙালী সংগ্রামী জাতি হিসেবে ইতিহাসে খ্যাত। পাকিস্তান শাসনামল থেকে  এ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক কোনো আন্দোলন কাঙ্ক্ষিত সফলতা ঘরে তুলতে পারেনি। দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এরশাদ সরকার পতনের পর বাংলাদেশের মানুষ মনে করেছিল এদেশের গণতন্ত্র আর কোনদিন লাইনচ্যুত হবে না। পরবর্তীতে গণতন্ত্র হোচট খেলেও তার গতিধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু এ গতিধারা চুড়ান্তভাবে বিধ্বস্ত হল ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে। ২০০৬ সালে সাংবিধানিকভাবে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছেড়ে তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, জামায়াতের মুখোমুখী অবস্থানের কারণে সহিংসতায় রক্তাক্ত হয় গোটা বাংলাদেশ।

প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মতানৈক্য চরমে পৌঁছানোয় দেশের বিশৃংখল পরিস্থিতিতে তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন-ইউ-আহমেদ সামরিক ছায়া সরকারের রুপে আবির্ভূত হন। এমন প্রেক্ষাপটে দেশকে শান্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় বসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফখরুদ্দিন আহমদ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন। পরবর্তীতে নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে এ সরকার মাইনাস- টু ফর্মুলার পথে হাটে। দল ভাঙা গড়ার খেলা খেলতেও তারা দ্বিধা করেনি। গণতন্ত্র রক্ষকের ভূমিকা পালন করতে এসে যখন এ সরকার ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তখনই ফুসে ওঠে এদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণ।

২০০৯ সালে প্রকাশিত “শান্তির স্বপ্নে” নামক স্মৃতিচারণমূলক বইয়ে মঈন ইউ আহমেদ নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন এভাবে “ তিনিসহ সশস্ত্র বাহিনীর অন্যান্য প্রধানগণ ও ডিজিএফআই এর একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ইয়াজ উদ্দিন আহমেদকে পরিস্থিতি বুঝানোর জন্য বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। সেখানে একটি কামরায় দেড় ঘন্টা অপেক্ষা করার পর প্রেসিডেন্টের দেখা মেলে। সেখানে প্রেসিডেন্টকে তারা “মহাসংকটময় পরিস্থিতি” থেকে দেশকে উদ্ধারের জন্য অনুরোধ জানান।” ক্ষমতা গ্রহণের পরিক্রমায় দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সেনা সদস্যদের প্রহার করার ঘটনায় সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে যা সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়কের ক্ষমতার ভীত নাড়িয়ে দেয়। বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন তার লেখা “নির্বাচন কমিশনে পাঁচ বছর” নামক বইয়ে লিখেছেন,“এ ঘটনা নিয়ে শুধু সেনাবাহিনীই নয়, অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছিল তত্বাবধায়ক সরকার”। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচনের জন্য সংলাপ অনুষ্ঠানে বাধ্য হয় সেনা সমর্থিত সরকার।

নির্বাচনী দরকষাকষিতে সেনা সমর্থিত সরকারকে বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নমনীয় মনোভাব এবং খালেদা জিয়ার কঠোর মনোভাব বিএনপিকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে ছিটকে ফেলে দেয়। অপরদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ বলে থাকেন, আওয়ামী লীগ নমনীয় হওয়ায় ক্ষমতার এসেছিল। তার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ২০০৯ সালের ১৪ জুন  ‍অবসরে যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত শাস্তির আওতায় না এনে জেনারেল মঈনকে সেনা প্রধান পদে রেখে দেওয়া এবং সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা। ডিজিএফআই এর ক্ষমতাধর পরিচালক এটিএম আমিন যাকে বলা হয় মাইনাস টু ফর্মুলার কারিগর তাকে ২০০৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পুরস্কার স্বরুপ ক্ষমতায় রাখা হয়। এছাড়াও ঐ সরকারের সকল কুশীলবকে সকল প্রকার সুবিধা দিয়ে বিদেশে বিভিন্ন দুতাবাসে কুটনীতিকের দায়িত্ব দিয়ে নিরাপদে দেশ ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর   সংবিধান থেকে তত্বাবধায়ক সরকার তুলে দিয়ে তার সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে। মনে করা হয়ে থাকে, ক্ষমতা সুসংহত করতে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের হাজার হাজার মামলা দিয়ে বিরাজনীতিকরণের পথ সুগম করা হয়। জামায়াতের নেতারা মনে করেন, শুধুমাত্র মতাদর্শের দ্বন্দের কারণে আন্তর্জাতিক মহলের আপত্তি উপেক্ষা করে বিচার করা হয়েছে। অপরদিকে আদালত তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে নির্বাচন করার অধিকারকে রহিত করে। যদিও দলটির পদযাত্রার পরিক্রমায় এপর্যন্ত নিষিদ্ধ হয়েছে চারবার।

সর্বশেষ বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের পুর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে নিষিদ্ধের রায় প্রদান করে। এ রায়ের ফলে জামায়াত দলগতভাবে ও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার অধিকার হারায়। জামায়াত নেতারা মনে করেন, মূলত জামায়াতের উপর যে রাজনৈতিক নিষ্পেষণ চলছে তার পেছনে ‍ভূ-রাজনৈতিক কৌশল, দেশীয় রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও মতাদর্শের দ্বন্দ্ব দায়ী। বর্তমানে বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক সংকটের পথ পাড়ি দিচ্ছে তা অতীতের যে কোন সংকটের তুলনায় ভিন্ন ও জটিল। ১৯৯১ সালে দেশে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের শাসন চালুর পরে আশা করা হয়েছিল যে এ ধরনের অবস্থার অবসান ঘটবে; কিন্ত তা ঘটেনি। পরে ১৯৯৬, ২০০৬ ও ২০১৪ সালে আরো গভীর সংকটের খাদে পড়েছে দেশটি। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তা বিকৃতের ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

মূলত ১৯৯১ সালের নির্বাচন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় যে পথ রচনা করেছিল তা অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু সেখানে সহিষ্ণু আচরনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনী সংস্কৃতি বিকাশে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে কোন আগ্রহই দেখা গেল না। স্থায়ী কাঠামো গঠনের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যা করা দরকার তা তারা করেছিল। সেক্ষেত্রে জামায়াত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য কখনো আওয়ামী লীগ আবার কখনো বিএনপির সঙ্গী হয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছে।

 ১৯৭০ এর দশকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, নীতি-নির্ধারক, এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্র বলতে নির্বাচনের উপর জোর দিতেন। আর এ কারণেই সে সময় দেশে দেশে স্বৈরাচারী কর্তৃত্ববাদী সরকার প্রধানগণ নির্বাচনের উপর ‍নির্ভর করতেন এবং নিজেদের গণতান্ত্রিক বলে দাবি করতেন। তখন সামরিক শাসকেরাও একই পথে হাঁটতেন এবং নিজেদেরকে গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা বলে দাবি করতেন। ১৯৯১ সালের প্রকাশিত এক গবেষণায় স্যামুয়েল হান্টিংটন দেখান, শাসন ব্যবস্থা হিসেবে গণতন্ত্রের তিন ধাপে প্রসার ঘটেছে। যাকে তিনি “গণতন্ত্রের তিন ঢেউ” নামে অভিহিত করেছেন। প্রত্যেক  জোয়ারের পর আসে ভাটা। যেমন ১৯৭৩ সালে সারা পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ ছিল গণতান্ত্রিক, ১৯৮০ সালে এক-তৃতীয়াংশ, এবং ১৯৯২ সালে অর্ধেক।

বর্তমানে গণতন্ত্রের যে বিভিন্ন রুপ পরিলক্ষিত হচ্ছে তার মধ্যে একটি হাইব্রিড-রেজিম অন্যতম। যেটা বর্তমানে বাংলাদেশে চলমান। মূলত এটি গণতন্ত্রের কোন রুপই নয়, নিজেই স্বতন্ত্র একটি রুপ। এ শাসন ব্যবস্থা নির্ধারণ করে কে রাজনীতিতে প্রবেশ করবে, আর কে করবে না। বর্তমানে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা সেই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। ইকোনোমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের ১৬৭টি দেশের মধ্যে ৩৭টি দেশের মোট জনসংখ্যার ১৬.৭% লোক এ ধরণের শাসন ব্যবস্থার অধীনে আবদ্ধ।
 
২০১৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ স্পষ্ট করে বিএনপিকে রাজনীতিতে কোনভাবেই জায়গা দেবে না। জাফর সোবহান তার প্রকাশিত, “There can be only one” শিরোনামে লেখেন “The game plan for rulling Awami league is clear. The AL plan for the coming year is therefore straight forward ; continue to squeeze life out of the BNP. (ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গেম প্লান খুবই সুস্পষ্ট । আগামী বছরে আওয়ামী লীগের প্লান খুবই সোজা সাপ্টা। চেপে ধরে বিএনপির প্রাণ বায়ু বের করে ফেলা অব্যাহত রাখা। মনে করা হয়, সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপির কর্ণধার বেগম জিয়া আদালতের রায় কাধে নিয়ে নিভৃত জীবন যাপন করছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াপুত্র ফেরারী আসামী হয়ে লন্ডনে অবস্থান করছে। দেশের পরিস্থিতি ভালো না হলে তার দেশে ফেরার কোন সম্ভাবনা নাই। অপরদিকে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার মামলায় ৩৫ লাখ আসামী যারা ফেরারি হয়ে অতি মানবেতর জীবন যাপন করছে। অপর বিরোধী শক্তি জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। তাদের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে দশ হাজারের বেশি মামলা এবং লক্ষাধিক আসামী। মূলত এসকল আয়োজন রাজনীতির মাঠকে প্রতিদ্বন্দ্বী শুন্য রাখার কৌশল।

ধর্মীয় রাজনীতি নিয়েও সরকারের গেম প্লান ছিল, কিন্তু তা সরকারের জন্য বুমেরাং হয়েছে। বাংলাদেশের ধর্মীয় রাজনীতির বিকাশ প্রক্রিয়ায় সংস্কারপন্থি ও রক্ষণশীল দুই ধারার মতাদর্শ বিদ্যমান। উভয় ধারার অনুসারিরা বর্তমানে রাজনীতির মাঠে মুখ্য খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এদেশের সমাজ জীবনে ইসলামের দৃশ্যমান উপস্থিতি আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এদেশে সরকার সংস্কারপন্থিদের মধ্যে জামায়াতকে গণ্য করে থাকে। আর এ সংস্কারপন্থিরাই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের মূল শত্রু বলে বামধারার রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করে থাকেন । সে জন্য জনগণ ধরে নেয়, সরকার আইন শৃঙ্খলা-বাহিনী, দলীয় পেশী শক্তি, রাষ্ট্রযন্ত্রকে পূর্ণভাবে কাজে লাগিয়েছে তাদেরকে দমন করার জন্য। পাশাপাশি রক্ষণশীল ধারাকে কাছে টেনে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে বিকশিত করার চেষ্টা করেছে এ সংস্কারপন্থিদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য। তারই অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলামকে বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে অনুমান করে সাধারণ মানুষ। যদিও পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় ২০১১ সাল থেকে সংস্কারপন্থি ধারা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়েছে কিন্তু নিঃশেষ হয়ে যায় নি। আর রক্ষণশীল ধারা যাদেরকে সরকার সংস্কারপন্থি জামায়াত দমনের কাজে লাগাচ্ছিল তারাও স্বাধীনতা ইস্যুতে ভারত বিরোধীতায় এগিয়ে এসেছে। ফলে এদেশে ইসলামপন্থিদের মধ্যে মতপার্থক্য কিছুটা হলেও কমে একধারার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আগামির রাজনীতির মাঠে যে তারা শক্ত প্রতিদ্বন্দি হয়ে দেখা দেবে তা বলাই বাহুল্য।

বাংলাদেশের মাটি কখনোই জঙ্গিবাদ চাষের উপযুক্ত নয়। তারা ইসলামী রাজনীতির দিকেই ঝুঁকবে জঙ্গিবাদকে বাদ দিয়ে। একারণে ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যত আগামী দিনগুলোতে বিকাশ লাভ করবে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। কেননা আদর্শের লড়াইয়ে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের চেষ্টার পরিণতি ইতিবাচক হয়না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার মনে করেন, “জামায়াত নামে দলটি টিকে না থাকলেও তাদের যে ভাবাদর্শ তা সহজে যাবে না। তিনি ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেন,“জামায়াত আবার ঘুরে দাঁড়ালে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ অতীতেও জামায়াত নিষিদ্ধ হয়েছিল তবে এটা নির্ভর করবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর।”

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতির কিংমেকার। কারণ তারা সরকার গঠন ও সরকার পতনে দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিক্রমায় বড় ভূমিকা রেখেছে। সেটার প্রমাণ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের তত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অবদান। তাছাড়া বড় দুই দলের সরকার পরিচালনায় রাজনৈতিক হানা-হানি, জেল-জুলুম, পেশিশক্তির অপব্যবহার জনগণের মধ্যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দিয়েছে। অপরদিকে ইসলামপন্থি এদলটি এক (Utopian) শোষণহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলে যার ফলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা জনগণের মাঝে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দলটির নেতাকর্মীরা দাবি করে থাকেন। শোষণহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা তাদের নেতাদের বক্তব্য, লেখালেখি, সংগঠনের বিভিন্ন প্রকাশনার মধ্য দিয়ে সবসময়ই প্রকাশ পায়। তাছাড়া রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিচালনায় না থেকেও দলটি দেশকে সেক্যুলার ধারা থেকে ইসলামি ধারায় আনতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে বলে দলটির দাবি। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ের জরিপ থেকে অনুমান করা যায় যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব বাড়বে, কমবে না।

আব্দুল খালেক
লেখক ও গবেষক