ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

আহসান ইব্রাহিম

১০ মার্চ ২০২২, ১৬:০৩

রাশিয়ার কাছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ইউক্রেন

26164_40.jpg
রাশিয়া বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ। এর আয়োতন ১ কোটি ৭১ লক্ষ ২৫ হাজার ১৯১ বর্গকিলোমিটার। রাশিয়ার মোট ভূখণ্ডের ৪০ শতাংশ পড়েছে ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে। শুধু এটুকু হিসেবে ধরলেও রাশিয়া ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশ। আবার দেশটির যে ৬০ শতাংশ এশিয়া মহাদেশে পড়েছে তাতেও দেশটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ হিসেবেও খ্যাতি পেতে পারে। মোট কথা ইউরোপ থেকে এশিয়া-বিশাল এলাকা জুড়ে দেশটির অবস্থান।

রাশিয়ার আয়োতন অনান্য দেশের তুলনায় যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিগুণ। ভারতের পাঁচগুণ। ব্রিটেনের চেয়ে ৭০ গুন বড়। কিন্তু দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১৪ কোটি ৬০ লাখ। যা বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া বা পাকিস্তানের চেয়েও কম। বিশাল ভূখণ্ডে গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস করে মাত্র ৮ জনের কিছু বেশি লোক।

দেশটিতে ৪৬টি প্রদেশ ছাড়াও রয়েছে ২২টি স্বায়ত্বশাসিত রিপাবলিক, ৯টি টেরিটরি, ৪টি স্বায়ত্বশাসিত জেলা। মূলত, এগুলো প্রায় একই ধরণের। তবে শাসন পদ্ধতি ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার পরিধির ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন নাম দেয়া হয়েছে এগুলোর। এই ৮৫টি অঞ্চলের প্রতিটি থেকে দুই জন করে এমপি নির্বাচিত হন পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের জন্য। রাশিয়ার রাজধানী ও সবচেয়ে বড় নগরী মস্কো। এই নগরীটি রাশিয়ার ব্যবসা-অর্থনীতিসহ সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু। বিশাল এই নগরীতে বাস করে ১২ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ।

রাশিয়ার পশ্চিমে সীমান্তে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেন। দক্ষিণে রয়েছে, রাশিয়া আবখাজিয়া, জর্জিয়া, দক্ষিণ ওসেটিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, চীন এবং ডিপিআরকে নিয়ে সীমান্ত। রাশিয়ার পূর্ব সীমানা হলো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বেরিং স্ট্রিটে এবং জাপানের সাথে কুনাশির স্ট্রিটে সমুদ্রসীমা।
রাশিয়া ধুয়ে গেছে তিনটি মহাসাগরের জল: উত্তরে - আর্কটিকে এবং পশ্চিমে - আটলান্টিক ও পূর্বে- প্রশান্ত মহাসাগর এর সমুদ্র দ্বারা ।

একটি দেশের ভৌগলিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এই তিনটি মূলত পর্যায়ক্রমে দেশের অবস্থান,আর্থিক উন্নয়ন এবং বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রভাবিত করে। আর এই তিনটি বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা করলে রাশিয়ার কাছে ইউক্রেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এবার জানা যাক ইউক্রেন বিষয়ে
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার সময় ইউক্রেন স্বাধীন হবার সুযোগ পায়। প্রকৃতপক্ষে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ইতিহাস বহু শতাব্দী ধরেই এক সাথে জড়িয়ে আছে । রাশিয়া ও ইউক্রেন - উভয়েরই প্রধান ধর্ম অর্থোডক্স খ্রিস্টান। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং খাদ্য - এগুলো একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই দেশের একটা বড় অংশের মানুষ এখনও রুশ ভাষাতেই কথা বলেন। তাদের এখনও রাশিয়ার প্রতি একটা ‘সফট কর্নার’ আছে। অভ্যন্তরীণ সমর্থন হিসেবে এই অংশের ওপর নির্ভরশীল পুতিন। তবে অর্থনীতি এবং ভৌগোলিক রাজনীতির ক্ষেত্রে দেশের মানুষ পশ্চিমের দিকে ঝুঁকেছে। অনেকদিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছিলেন পুতিন। কিন্তু ২০১৪ সালে ইউক্রেনের মানুষ রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্টকে গদি থেকে সরাতেই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় তার। তাই খুব দ্রুত ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে হিসাব পালটে দেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এখন জানার বিষয় হলো আগে ক্রিমিয়াকে দখল করে বর্তমানে ইউক্রেনের সাথে চলমান যুদ্ধেরই বা কী দরকার ছিল? এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। আসুন এবার জেনে নেই বিস্তারিত........

রাশিয়া যত বড় দেশই হোক, তাদের একটাই সমস্যা - সারা বছর সচল রাখা যায় উষ্ণ পানির এমন গুরুত্বপূর্ণ বন্দর তাদের প্রায় নেই বললেই চলে। ক্রিমিয়ার সেভাস্তাপোলে রাশিয়ার যে নৌঘাঁটি, সেটি কৌশলগত কারণে তাই রাশিয়ার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাল্টিক সাগরে রাশিয়ার ঢোকার একমাএ পথ হচ্ছে এই বন্দরটি। সেটি হাতছাড়া হতে তারা কোনোভাবেই দিতে চায়নি। প্রায় ২০০ বছর ধরে ক্রিমিয়া কিন্তু রাশিয়ারই অংশ ছিল।

ক্রিমিয়ার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষও জাতিগত রুশ। ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ এটি হস্তান্তর করেন তৎকালীন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ইউক্রেনের কাছে। তখন তারা ভাবেননি, কোনো একদিন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবে এবং ক্রিমিয়ার ওপর মস্কোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাবে। তাই পুনরায় ক্রিমিয়াকে দখল করে নেয় রাশিয়া।

এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউক্রেন যে ন্যাটোর সদস্য হবে, সেটা রাশিয়া কোনোভাবেই মেনে নেবে না। কিন্তু মস্কো যখনই দেখলো যে ইউক্রেন তাদের প্রভাবের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন প্রেসিডেন্ট পুতিন সেখানে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেন।

টিমোথি জন মার্শাল নামের একজন ব্রিটিশ সাংবিাদিক এ বিষয়ে তার ‘প্রিজনার্স অব জিওগ্রাফি’বইতে লিখেছেন, কোনো বৃহৎ শক্তির অস্তিত্ব যখন হুমকিতে পড়ে, তখন সে শক্তি প্রয়োগ করবেই। এটা হচ্ছে কূটনীতির এক নম্বর শিক্ষা।

তিনি তার বইতে আরো লিখেছেন, ‘আপনি হয়তো এরকম একটা যুক্তি দিতে পারেন যে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামনে বিকল্প ছিল। তিনি ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে পারতেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে প্রেসিডেন্ট পুতিন আসলে রাশিয়ার ঈশ্বর প্রদত্ত ভৌগোলিক হাত নিয়ে খেলছেন এখানে।’

‘কাজেই ইউক্রেনের ব্যাপারে কিছু না করে বসে থাকার কোনো সুযোগ তার ছিল না। কারণ ক্রিমিয়া ছিল রাশিয়ার একমাত্র উষ্ণ পানির বন্দর, আর পুতিনের আমলেই এই বন্দর রাশিয়ার হাতছাড়া হবে, সেটা তিনি চাননি।’ রাশিয়া নিজেকে এখনো দেখে একটি পরাশক্তি হিসেবে, এবং বিশ্বে তার সেই সামরিক-রাজনৈতিক শক্তি অটুট রাখার ক্ষেত্রে ক্রিমিয়ার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব তাই অনেক।

ইউক্রেন এখনো ন্যাটোর সদস্য নয়। ভবিষ্যতে কোনো একদিন তারা ন্যাটো জোটের সদস্য হবে, এরকম একটা বোঝাপড়া আছে। তবে রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে এরকম একটা নিশ্চয়তা চেয়েছিল, যেন এটা কখনোই না ঘটে। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো এরকম নিশ্চয়তা দিতে রাজি ছিল না। ইউক্রেনের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ জাতিগতভাবে রুশ। তাদের সাথে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আছে। রাশিয়া কৌশলগতভাবে ইউক্রেনকে তার বাড়ির পেছনের আঙ্গিনা বলে বিবেচনা করে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন মনে করেন, পশ্চিমা শক্তি আসলে ন্যাটো জোটকে ব্যবহার করে চারিদিক থেকে রাশিয়াকে ঘিরে ফেলছে। তিনি চান ন্যাটো যেন পূর্ব ইউরোপে তাদের সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনে।
তিনি বহুদিন ধরে অভিযোগ করে যাচ্ছিলেন যে ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটকে পূর্বদিকে সম্প্রসারণ করা হবে না বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটি তারা রাখেনি। তবে ন্যাটো রাশিয়ার এই কথা প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু ইউক্রেনকে ন্যাটো সামরিক জোটে ঢুকতে না দেয়ার যে দাবি রাশিয়া জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তা নাকচ করে দিয়েছে।

রাশিয়ার মতো সামরিক শক্তি কেন নিরাপত্তা নিয়ে এত উদ্বিগ্ন ছিল এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধেই জড়াতে হলো?

ব্রিটিশ সাংবাদিক টিম মার্শাল তার লেখা বেস্টসেলার ‘প্রিজনার্স অব জিওগ্রাফি’ বইতে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, অনেক ভাবতে পারেন রাশিয়ার মতো এত বড় একটি সামরিক ক্ষমতাধর দেশকে কে আক্রমণ করতে চাইবে। কিন্তু রাশিয়া নিজে বিষয়টি সেভাবে দেখে না। এর যথেষ্ট ভিত্তিও আছে। গত ৫০০ বছরে রাশিয়া বহু বিদেশী শক্তির আক্রমণের মুখে পড়েছে, আর এই সবগুলো আক্রমণই এসেছে উত্তর ইউরোপের সমতল ভূমি দিয়ে।

১৬০৫ সালে পোলিশরা আক্রমণ চালিয়েছিল এই পথ ধরে। এর পরে আসে সুইডিশরা। ১৮১২ সালে নেপোলিয়নের নেতৃত্বে হামলা চালায় ফরাসীরা। জার্মানরা রাশিয়ায় অভিযান চালিয়েছে দুবার - ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, আবার ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে।

১৮১২ সালে নেপোলিয়নের সময় থেকে হিসাব করলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত গড়ে প্রতি ৩৩ বছরে রাশিয়াকে উত্তর ইউরোপের সমতলভূমিতে একবার করে যুদ্ধ করতে হয়েছে। কাজেই রাশিয়ার ধারণা, তাদের দেশের জন্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি যদি থেকে থাকে, সেটি এই পথেই আসবে।

১৯৯০ এর দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন যে ভেঙ্গে গিয়েছিল, সেটিকে প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ার জন্য এক ভূরাজনৈতিক বিপর্যয় বলে মনে করেন। এরপর থেকে রাশিয়া কেবল উদ্বেগের সাথে দেখছে, কীভাবে ধীরে ধীরে সামরিক জোট ন্যাটো চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলছে।

১৯৯৯ সালে চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড যোগ দিল ন্যাটোতে। ২০০৪ সালে তাদের পথ অনুসরণ করলো বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়া। ২০০৯ সালে যোগ দিল আলবেনিয়া।

এই দেশগুলো এক সময় হয় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ অথবা ওয়ারশ সামরিক জোটের সদস্য।
জর্জিয়া, মলদোভা বা ইউক্রেনও পারলে ন্যাটো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়, কিন্তু এখন পর্যন্ত রাশিয়ার কারণেই তাদের যোগ দেয়া হয়নি। কারণ এই তিনটি দেশেই রুশপন্থী মিলিশিয়াদের শক্ত অবস্থান আছে। এই দেশগুলোর যেকোনো একটি যদি ন্যাটোতে যোগ দেয়, তা রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করতে পারে।

কারণ গত শতকে স্নায়ুযুদ্ধের দিনগুলোতে কে ভাবতে পেরেছিল মস্কো থেকে মাত্র কয়েক শ’ মাইল দূরে পোল্যান্ডের মাটিতে বা বাল্টিক দেশগুলোতে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা থাকবে?
তার মতে, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেয়া মানে যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর সামরিক বাহিনী একেবারে রাশিয়ার পেটের ভেতরে এসে অবস্থান নেয়া। নিজের দোরগোড়ায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতিকে রাশিয়া সঙ্গত কারণেই এক বিরাট নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছিল।

ইউক্রেন সংকটে রাশিয়ার বড় ইস্যু গ্যাস
পরমাণু অস্ত্রের কথা বাদ দিলে, রাশিয়ার হাতে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র কিন্তু তার সেনাবাহিনী বা বিমান বাহিনী নয়। রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র তার জ্বালানি। ইউরোপের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২৫ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। লাটভিয়া, স্লোভাকিয়া, ফিনল্যান্ড ও এস্তোনিয়ার মতো দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানির ওপর শতভাগ নির্ভরশীল। জার্মানির প্রায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহ আসে রাশিয়া থেকে। জার্মানির রাজনীতিকরা কেন রাশিয়ার সমালোচনায় অতটা সরব নয়, এ তথ্য থেকেই তা বোঝা যায়। আর ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে ইউক্রেন হচ্ছে রাশিয়ার প্রবেশ দ্বার। রাশিয়া থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রধান গ্যাস পাইপ লাইনগুলো গেছে ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে। রাশিয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ গ্যাসের সরবরাহ যায় এই পাইপলাইন দিয়ে।

কাজেই ইউক্রেন যদি রাশিয়ার প্রভাব বলয়ের বাইরে চলে যায়, তাহলে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়া তার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে।

তবে ইউক্রেনকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়া বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে জার্মানি পর্যন্ত নর্ড স্ট্রিম-২ নামে নতুন একটি গ্যাস পাইপলাইন বসিয়েছে।

ইউরোপ যেভাবে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তাতে করে রাশিয়া অন্যান্য দেশগুলোর ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে গেছে।

তারা মনে করে, রাশিয়া চাইলে যেকোনো সময় এসব গ্যাস পাইপলাইন সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে, এখন রাশিয়ার সামনে এই জ্বালানিই একটা রাজনৈতিক বড় ধরনের অস্ত্র ।

এখন মূলত রাশিয়া চাচ্ছে দেশের ভৌগলিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এই তিনটি অবস্থানের কারনে ইউক্রেন তাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজ দেশের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা হুমকির মুখে রেখে নিজেদের ভুখন্ডে পশ্চিমা অথবা ন্যাটোজোটের উপস্থিতি তারা রোধ করতেই ইউক্রেনকে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মস্কো।