ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

১০ মার্চ ২০২২, ১৪:০৩

মশকরার বাজার

26162_14.jpg
আজকাল সামাজিক মাধ্যম  এত বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, অনেকে ক্যারিয়ার প্লানে রাখছেন এটিকে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতা এমন সুযোগ করে দিয়েছে, গতিশীল করেছে জীবনকে। তবে এখানে গতিহীনও  যে হচ্ছেন আবেগীরা তাও বলা যায়। মানুষ কখনো কষ্ট  বা দুর্ভোগ নিয়ে যে বিনোদন করতে পারে , তার জ্বলন্ত সাক্ষী হলো সামাজিক মাধ্যম। তবে বিনোদনগুলো আবার  কিছু কিছু অসংগতিও তুলে ধরে। এতে মনে হয় বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা কষ্টকে বিনোদনে পরিণত করতে পারি ভোগান্তি বা ক্ষতি যাই হোক।

বিগত দু-এক বছরের অভিজ্ঞতায় মানুষ সত্যটা একটু ঘুড়িয়ে বলতে পারছেন। তবে অসাম্য বা অব্যবস্থাপনার প্রতিকার কতটুকু পাচ্ছেন সেই হিসেব হয়তো কারোরই করা হয় না। তবে হা –হুতাশে কেটে দিতে পারেন সময়গুলো।

ফেসবুক লাইভে এসে নিজের পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যার নজির বাংলাদেশে আছে। আত্মহননকারী সেই মহসিন খান ছিলেন বাংলাদেশের একজন  বড় ব্যবসায়ী। পরিবারের অবহেলা, ব্যবসায়িক বন্ধুদের প্রতারণা  ও লোকসান অসুস্থতাসহ ভারসাম্যহীনতার জেরে তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে সত্যটা হয়তো  আধুনিক সামাজিক বাস্তবতার আরো গভীরে।

মানুষ রোজগারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবসা করেন। তবে মহসিনের সেই ভিডিও কেউ কেউ ফেসবুকে আপলোড দিয়ে ভিউ বাড়িয়ে ব্যবসা করছেন। আবার বর্তমান বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে অনেকে ফানি ভিডিও বানাচ্ছেন। দুয়ের মাঝে তফাৎ বিস্তর। ভোজ্য তেল নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুটি ফানি ভিডিওতে  বাজার অস্থিরতার যে চিত্র উঠে  এসেছে তা সামাজিক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেছে। দু বছরের ব্যবধানে বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ‍দ্বিগুনেরও বেশি হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের দায়ত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। প্রশ্ন হলো চাকরিজীবিদের বেতন কী বিগত দু’বছরে দ্বিগুন হয়েছে?  হ্যাঁ তা নিশ্চিতভাবেই হয়নি। বরং অতিমারীর কারণে বন্ধ হয়েছে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কলকারখানা। এতে কেউ চাকুরিচ্যুত হয়েছেন, আর কারো কমানো হয়েছে বেতন। তাহলে ক্রয়মতা বাড়লো কিভাবে? দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় কিভাবে মানুষ টাকা ধার বা ঋণ করে সংসারের নিয়মিত খরচ চালাচ্ছেন।  

মানুষ কি আজ অতীতের সিনেমার চিত্র প্রত্যক্ষ করবে। কেউ কেউ কি বলবে ভাত দে, নইলে মানচিত্র ছিড়ে খাবো। কিংবা সন্তানের আহার যোগাতে না পেরে বিষাক্ত করবে নিজ হাতে মায়েরা। বর্তমান সামাজিক চিত্রের বর্ণনায় অনেক মানুষ অতীতের বিভিন্ন সিনেমার  ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবে ছেড়ে দিচ্ছেন। এছাড়া সকল রাজনৈতিক দলও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন, সরকারের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দিচ্ছেন বিবৃতি ।
 
এতদসত্ত্বেও সরকার বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না কেন? তাহলে কি দেশের মৌলিক চাহিদার পণ্যগুলো আমদানিকারক বা সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সিন্ডিকেটের কব্জায়? এমন হলে তা দ্রুত খুঁজে বের করে শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। তথ্যমতে, আজ থেকে কয়েক বছর আগেও দেশে প্রায় পচিশটি কোম্পানি ভোজ্য তেল আমদানি  ও রিফাইন করতো। কিন্ত বর্তমানে সেই কোম্পানির সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র হাতে গোনা পাঁচ থেকে ছয়টিতে। ফলে সিন্ডিকেটের কবলে যে পড়েছে তা সহজে অনুমেয়। তাই তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। নইলে ফানি ভিডিওতে  দেখানো দৃশ্যের মতো আঙ্গুলের টোকা দিয়ে তরকারিতে তেল দেয়ার নতুন  চিত্রের সাক্ষী হবে মানুষ।

সরকার যে টিসিবির ট্রাকসেলের মাধ্যমে মানুষের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করছে তাতেও দেখা যাচ্ছে অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা। কেননা সেখানে তেল-ডাল-পেঁয়াজ-চিনি’র প্যাকেজ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। একই সাথে চাহিদা অনুযায়ী মানুষ কিনতেও পারছে না। কখনো কখনো পণ্যসহ বিক্রয়স্থল ত্যাগ করার সময় মানুষ ট্রাকে মানুষ ঝুঁলতে ও পিছনে দৌঁড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায়। এমনি পরিস্থিতিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মন্তব্য করেছিলেন যে,  টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কেনা একধরণের ভিক্ষাবৃত্তি। স্পষ্টতই ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে মানুষ টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে কিংবা ট্রাকে ঝুলে পণ্য কিনতো না। তাহলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে সরকার টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে উদ্বুদ্ধ করছেন কেন? না কি ‘মশকরার বাজার’ এদেশের মানুষের নিয়তি করতে চান সরকার। মানুষকে দুর্ভোগ থেকে বাঁচাতে এখনি পদক্ষেপ নিতে হবে। ভোলাতে হবে ফকিন্নির বাজারের তকমা। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে যে স্বীকৃতির দাবি করা হচ্ছে তার প্রতিফলন হওয়া দরকার সর্বত্র। ভান্ডার ফাঁকা রেখে কাগজে কলমে ঘুচবে না মানুষের মৌলিক চাহিদা।