ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

এনএনবিডি ডেস্ক

৯ মার্চ ২০২২, ২১:০৩

কাজী হায়াতের কাছে সালমান শাহ'র শেষ অনুরোধ

26139_08.jpg
সংগৃহীত ছবি
বাংলা চলচ্চিত্রের রাজপুত্র সালমান শাহ। তরুণ প্রজন্মের স্টাইল আইকন হয়ে উঠেছিলেন ঢালিউডের ক্ষণজন্মা এই নক্ষত্র। আর তাইতো মৃত্যুর দুই যুগ পরেও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তার।

মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমা করার সুবাদে অনেক পরিচালকের সঙ্গেই কাজ করেছেন প্রয়াত সালমান শাহ। কিন্তু কিংবদন্তি নির্মাতা কাজী হায়াতের নির্দেশনায় কাজ করা হয়নি তার। চিত্রনায়ক সাইমন সাদিকের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন নির্মাতা।

কাজী হায়াত বলেন, ''আমি একদিন ডাবিং করছিলাম। হঠাৎ সালমান শাহ সেখানে হাজির হয়ে বললো, 'ওস্তাদ একটু কথা বলব।' আমি তার কাছে জানতে চাইলাম। এরপর সে (সালমান শাহ) বললো, 'অন্যের থেকে যা নিই, তার চেয়ে দুই লাখ টাকা কম নেব। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাব, এমন একটা চরিত্রে আমাকে নেবেন। কথা দিন।''

সেদিনে সালমানের সেই অনুরোধ ফেলেননি কাজী হায়াত। তিনি সালমানকে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার কিছুদিন পরই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সকলের প্রিয় মুখ সালমান শাহ।

তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম- অন্তরে অন্তরে, সুজন সখী, স্বপ্নের নায়ক, স্বপ্নের ঠিকানা, চাওয়া থেকে পাওয়া পাওয়া, জীবন সংসার, প্রেম প্রিয়াসী, সত্যের মৃত্যু নেই, মায়ের অধিকার, এই ঘর এই সংসার, তোমাকে চাই, আনন্দ অশ্রু, বুকের ভেতর আগুন ইত্যাদি। এখনও টিভি পর্দায় তার অভিনীত সিনেমা প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন।

সালমান শাহের সঙ্গে চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা জুটিও বলেন অনেকে। এই জুটির প্রতিটি ছবিই সুপারহিট। তাদের পর্দার রসায়ন ছিল নজরকাড়া। বাস্তব জীবনের রসায়ন নিয়েও তুমুল আলোচনা হতো। সালমান শাহের সঙ্গে শাবনূরের সে সময়কার সম্পর্ক নিয়ে এখনো কম-বেশি চর্চা হয়।

সালমান শাহ পরবর্তী সময়ে যারা চলচ্চিত্রে নায়ক হওয়ার জন্য এসেছেন তারা প্রত্যেকেই বলেছেন, সালমান শাহ-ই ছিলেন তাদের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস।

অনেকে মনে করেন, অল্প সময়ের জন্য এসেছিলেন বলেই এত দ্যুতি ছড়াতে পেরেছিলেন সালমান, কেটে গেছেন দাগ। যে দাগ তার প্রস্থানের এত বছর পরেও সমুজ্জ্বল। তার অনুপস্থিতি আর অকাল প্রস্থান আজও পোড়াচ্ছে বাঙালির মন। তাকে বলা হয় ৯০ দশকের শ্রেষ্ঠ নায়ক।

প্রসঙ্গত, চলচ্চিত্রে অভিষেকের আগের বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট তার খালার বান্ধবীর মেয়ে সামিরা হককে বিয়ে করেন সালমান শাহ। সামিরা ছিলেন বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী। তিনি সালমানের দু’টি চলচ্চিত্রে তার পোশাক পরিকল্পনাকারী হিসেবেও কাজ করেন। দাম্পত্য জীবনের পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎই সালমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এদিন ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে 'আত্মহত্যা' বলে উল্লেখ করা হলেও তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য রয়ে গেছে।