ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

জায়েদ আনসারী

১ মার্চ ২০২২, ১৬:০৩

ইউক্রেন- রাশিয়া যুদ্ধ

রুশ কিলিং মিশন, ভ্যাকুয়াম বোমা ও কূটনৈতিক আলোচনা কতদূর!

25807_58213.JPG
গুপ্তঘাতক বাহিনী, ভ্যাকুয়াম বোমা হামলার চিত্র ও খারকিভের চিত্র
ইউক্রেনে আজ অবধি হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। বেশ কিছুদিন ধরে চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করেছিল রুশ বাহিনী। হামলার মোকাবেলায় ইউক্রেন বাহিনী অনড় থাকে। প্রথম দিনের হামলায় রাজধানী কিয়েভে বেশ কয়েকটি জায়গায় বড় বিস্ফোরণ ঘটে। ইউক্রেন সেনাবাহিনী রুশ বিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবিও জানায়। হতাহতের দিকে থেকে রাশিয়া দাবি করে তারা ইউক্রেনের শতাধিক সেনাকে হত্যা করছে। অবশ্য ইউক্রেন কর্তৃপক্ষও স্বীকার করে বেসামরিক লোকসহ তাদের ১৩৭ জন লোক নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ মার্চ) রুশ কামান হামলায় আরো ৭০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। একই সাথে ইউক্রেন দাবি করে যে তারা রুশ আগ্রাসী বাহিনীর সাড়ে ৪ হাজার সেনাকে হত্যা করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনে দেখা দিয়েছে চরম মানবিক সংকট। বিদেশী নাগরিকরা দেশটি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের দূতাবাস কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরতে নির্দেশনা দেন। চীনও ইউক্রেন দূতাবাস থেকে তার কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ভারতীয় শিক্ষার্থীরা পোল্যান্ড সীমান্তে গেলেও তারা ভোগান্তির শিকার হন ও সীমান্ত অতিক্রম করতে ব্যর্থ হন এমনকি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন। দেশটির বর্তমান কর্তৃপক্ষ সেদেশের যুবক ও সক্ষম ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যাতে তারা রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে শামিল হয়।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টে ভ্লাদিমির পুতিন সামরিক অভিযান ঘোষণা করার পর ইউক্রেনে বিগত কয়েকদিনে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি শহর দখলে নেয়ার দাবি করেছে রুশ বাহিনী। একই সাথে রাজধানী কিয়েভে তুমুল লড়াই লিপ্ত রুশ ও কিয়েভ বাহিনী। কিয়েভের পুরো দখল নিতে প্রায় ৪০ মাইল দীর্ঘ রুশ সামরিক কনভয় কিয়েভমুখী বলে একটি স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি প্রকাশ হয়েছে।

এদিকে চলমান রুশ হামলার বিবরণে ইউক্রেনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত ওকসানা মারকারোভার মার্কিন কংগ্রেসে চলমান যুদ্ধের পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের মাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করেছে।

বিবিসির একটি প্রতিবেদনে ভ্যাকুয়াম বোমার ধরণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ভ্যাকুয়াম বোমার ক্ষেত্রে প্রচলিত গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয় না। এ ক্ষেত্রে উচ্চচাপ তৈরি করে আশপাশের এলাকার অক্সিজেন টেনে নিয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে রাশিয়া সত্যিকার অর্থেই ইউক্রেনে ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করেছে কি না, তার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক এই গণমাধ্যমটি। আরেকটি গণমাধ্যম সিএনএন গত শনিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, রাশিয়ার বেলগোরোদ শহরের কাছে একটি ভ্যাকুয়াম রকেট লঞ্চার দেখা গেছে।

সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি গুপ্তহত্যা চালানোর মহাপরিকল্পনা রাশিয়া করছে বলে অভিযোগ করছে ইউক্রেন। লেবাননে নিযুক্ত ইউক্রেনের দূত ইহর ওস্তাশ বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলোনস্কিসহ অন্যান্য শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের হত্যায় রাজধানী কিয়েভে চার শ’ ভাড়াটে (গুপ্তঘাত) পাঠাচ্ছে রাশিয়া। ব্রিটেন থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ওয়াগনার সিকিউরিটি কোম্পানি তাদের ৪০০ সেনা পাঠিয়েছে। এই বাহিনীর টার্গেটই হলো ইউক্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনীতিকদের হত্যা করা। এমন খবর প্রকাশ করেছে ইয়েনি শাফাক।

রাজধানী কিয়েভসহ পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য চলমান রুশ হামলায় ইউক্রেনের হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন প্রায় ফুড়িছে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ফলে দেশটির হাসপাতাগুলোতে ভর্তি হাজার হাজার রোগীর প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস গ্যাব্রেয়েসাস এবং ইউরোপের আঞ্চলিক ডিরেক্টর হান্স ক্লুগে একটি যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেনে অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক উল্লেখ করে জানান, বেশির ভাগ হাসপাতালেই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মজুত থাকা অক্সিজেন ফুরিয়ে যাবে।

সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সকল পক্ষই তৎপরতা চালাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে গতকাল সোমবার বেলারুশের গোমেল অঞ্চলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসে। তবে পাঁচ ঘন্টার আলোচনাতেও সংকটের কোনো সমাধান হয়নি। বরং ওই আলোচনার পরও ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রাখা সহ রাজধানী কিয়েভ দখলে সামরিক কনভয় পাঠিয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে এরই মধ্যে জাতিসংঘে ১২ জন গোয়েন্দা অপারেটিভকে বহিস্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপ ও এশিয়ার প্রবেশদ্বার তুরস্ক বসফরাসও দার্দানেলিস দিয়ে যুদ্ধজাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। ১৯৩৬ সালে ফ্রান্সের মনট্রো শহরে তুরস্ক, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়াসহ বিশ্বের অন্য নয়টি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের মধ্যেই তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ চাভুশওলু এই ঘোষণা দেন। এদিকে ইউরোপের আকাশসীমা ব্যবহারে রাশিয়ার জন্য নিষিদ্ধ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি একই আহবান জানায় জেলোনস্কি। কিন্তু ইউক্রেনের সেই আহবানকে ভালো কোনো উদ্যোগ না উল্লেখ করে তা প্রত্যাখান করে যুক্তরাষ্ট্র। এমন উদ্যোগ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরুর আশঙ্কা করা হয়।

ইউক্রেন প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে বলেন, আমেরিকা ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে দেশটিতে আজকের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি যেকোনো দেশে মানুষ হত্যা এবং অবকাঠামো ধ্বংসের বিরোধীতা করে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর তৃতীয় (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিনে দেশটিকে মানবিক সহয়তা করতে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতরেসে।

যুদ্ধের ৬ষ্ঠ দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছেন। এসময় রুশ বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও খারকিভে কয়েক ডজন বেসামরিক লোক নিহত করার কথা বলেন তিনি। রুশ সেনারা বেসামরিক লোকদের টার্গেট করে হত্যা করছে, প্রমাণও রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, রুশ আক্রমণের সময় যুদ্ধাপরাধ হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ওইসব অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত চালু করতে যাচ্ছে।

তবে যুদ্ধের পুর্বাপর যাই ঘটুক না কেন, তাতে যে ক্ষতি হচ্ছে বা হবে তা কমিয়ে আনতে আরো কার্যকর উদ্যোগ দরকার বিশ্ব নেতৃত্বের। ইউক্রেন ও রাশিয়ার পরবর্তী আলোচনা কতটুকু সুফল বয়ে আনবে তা দেখার অপেক্ষা। এরই মধ্যে জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে রুশ শর্ত মেনে সেই আলোচনা কতটুকু সফল হবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না।