ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

৩১ জানুয়ারি ২০২২, ১০:০১

শেষ হোক ক্যাম্পাস খোলার প্রতীক্ষা

24587_1.jpg
 
 
সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ২৩ জানুয়ারি থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে, থাকবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিশ্বে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের দ্রুত বিস্তারে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কিংবা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, গণপরিবহন, গণজমায়েত, রাজনৈতিক কর্মকান্ড, অফিস-আদালতে কম লোকবল নিয়ে কাজসহ অনেক ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। এসব পদক্ষেপের সুফল কিংবা কুফল সকলের প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়েছে। পর্যালোচনা কিংবা সমালোচনা যাই করা হোক না কেন ভাইরাসের সংক্রমণের বাস্তবতা যেমনটি আছে, তেমনি পদক্ষেপগুলো কার্যত ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ এসব বিধি-নিষেধের কোনোটিই কাজে আসেনি। দৃশ্যত; গণপরিবহন সংকটে  অনেকক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই যানবাহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করছে না মানুষ, সরকারি উদ্যোগ তেমন চোখে পড়েনি, বাণিজ্য মেলার মতো জায়গায় গণজমায়েত বন্ধ করা হয়নি, প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ অবাধ চলাফেরা করছে ফলে অন্য সদস্যরা ঝুঁকিমুক্ত হতে পারেনি।

বিশষজ্ঞদের মতে অব্যাহত টিকা কার্যক্রম মানুষের মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। তবে জীবন-জীবিকার তাগিদে মানুষকে কর্মক্ষেত্রসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে হবে। সেই জায়গায় কার্যকরী নীতির বাস্তবায়ন দরকার। একই সাথে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর গত ২৮ জানুয়ারি এক বিবৃতি স্কুলসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে আহবান জানিয়েছেন। কারণ  স্কুলগুলো পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৬১ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্থ বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিবৃতিতে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ডিজিটাল সংযুক্তির পেছনে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলেই কোনো শিশু পেছনে পড়ে থাকবে না। প্রতিটি শিশুকে স্কুলে ফিরিয়ে আনতে আমাদের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি কমিউনিটির প্রান্তিক শিশুদের ওপর বিশেষ লক্ষ্য রেখে কিছু বিষয়ে বিস্তৃত সহায়তা দেওয়া। যেমন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া, মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সহায়তা, সুরক্ষা এবং অন্যান্য পরিষেবা দান। শিক্ষক এবং স্কুল কর্মীদের অবিলম্বে টিকা দান।

বাংলাদেশে গৃহীত পদক্ষেপ ও বাস্তবচিত্র শিক্ষা ক্ষেত্রে এক অশনি সংকেত দিচ্ছে। কারণ চলমান ঘটনাটি রাখালের বাঘের ভয় দেখানোর একটি গল্পের সাথে মিলে যাচ্ছে। রাখাল প্রতিনিয়ত বাঘ এসেছে বাঘ এসেছে বলে গ্রামবাসীকে ভয় দেখাতো। ফলাফলে যেদিন সত্যিকার অর্থে বাঘ আক্রমণ করে, সেদিন কোনো গ্রামবাসী তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। মর্মার্থ হলো- মিথ্যাবাদীর সঙ্গী হয়ো না, বন্ধু হয়ো না, তাহলে সব হবে ছারখার। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সবকিছু খোলা রাখা কতটা সততার পরিচয় দিচ্ছেন দায়িত্বশীলরা তা নিয়ে খোদ শিক্ষাবিদরা সমালোচনা করছেন, প্রশ্ন তুলছেন। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে যদি সবকিছু খোলা রাখা যায় তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও সচল রাখা সম্ভব। সম্ভাবনাময় তরুন প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর উৎকৃষ্ট সময় এখনই। আর যেন বন্ধ দীর্ঘায়িত না হয়, এমন প্রত্যাশাই করছে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও সচেতন মহল।