ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

২৪ জানুয়ারি ২০২২, ২২:০১

মুসলিম ঐতিহ্যের দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন বায়তুর রউফ মসজিদ

24320_images.jfif
‘আগা খান অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত সুলতানি আমলের স্থাপত্য শৈলীর অনুকারে প্রণীত মুসলিম ঐতিহ্যের দৃষ্টিনন্দন এক নিদর্শন বায়তুর রউফ মসজিদ।

রাজধানী ঢাকার টঙ্গী আব্দুল্লাহপুরের দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ নামক এলাকায় মসজিদটির অবস্থান। প্রচলিত মসজিদগুলোর তুলনায় এই মসজিদের গঠন,নকশা ও আকৃতি পুরোটাই ভিন্ন। মসজিদের ভেতরে আলো-বাতাস প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে লাল ইটের নিমজ্জিত ছিদ্রযুক্ত প্রাচীর। যদিও সম্পূর্ণ মসজিদটি নির্মাণ করা হয় লাল ইটের ধারা এবং এখানে কোনও ধরনের রং কিংবা প্লাস্টারের ব্যবহার হয়নি। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, মসজিদটির মিনার কিংবা গম্বুজ কিছুই নেই এবং নেই কোনও পরিচিত চিত্রায়কও। মসজিদের অন্তরে প্রলম্বিত বাতি এবং বৈদ্যুতিক পাখাগুলোও আকর্ষণ করে নতুন মুসল্লিদের। মসজিদে প্রবেশের পর যেরূপ ঝকঝকে রোদের দেখা মিলবে তদরূপ ঝম ঝম বৃষ্টিতেও উপভোগ করা যায় বর্ষার দারুণ আবাহ।

সুফিয়া খাতুনের ওয়াকফকৃত (দান) জমির ওপর ২০১২ সালে তার দৌহিত্রী মেরিনা তাবাসসুম মসজিদটি নির্মাণ ও ডিজাইন করেন। জানা গেছে,গোটা মসজিদটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে দেড় লাখ মার্কিন ডলার। ৭৫৪ বর্গমিটার বিশিষ্ট মসজিদটির কিবলার মুখে ১৩ ডিগ্রি কর্নার একটি স্তম্ভ এবং উভয় পাশে মোট আটটি খুঁটি বা পিলারের ওপর মসজিদটি প্রবর্তিত। সম্পূর্ণ মসজিদটি কত তলা তা নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। কেননা মসজিদে প্রবেশের পর এটি একতলা বিশিষ্ট মনে হলেও,এর একদম পেছনে অভিমুখে সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই চোখে পড়বে সামান্য পরিমাণ জায়গা, অধিকন্তু জায়গা সংকট হলে মুসল্লিদের সেখানে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। একটি চতুর্ভুজের মধ্যস্থলে একটি বৃত্ত এবং সেই বৃত্তের অভ্যন্তরে আবার ৫০ ফুট সমপরিমাণ আরেকটি চতুর্ভুজ এভাবেই ডিজাইন করা হয় মসজিদের ছাদটি। তাছাড়া মসজিদে প্রবেশের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় তিনটি প্রবেশ পথ।

চমকপ্রদ নকশাশৈলী ও গাঠনিক সৌন্দর্যের কারণে ২০১৬ সালে ‘আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার’ পুরস্কার অর্জন করে মসজিদটি। স্থাপত্য শিল্পকর্মের জগতে এই পুরস্কারটি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন এক স্বীকৃতি। তথ্য সূত্রে জানা গেছে,এই পুরস্কারটির বাজার দর ১০ লাখ মার্কিন ডলার। মসজিদটির নাম বায়তুর রউফ হলেও,’ইটের মসজিদ’ বা ‘লাল মসজিদ’ হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে এটি। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদে প্রতি ওয়াক্তে ৪০০ জন মুসল্লি একত্রে সালাত আদায় করতে পারেন। তাছাড়া দেশীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদেরও আনাগোনা লক্য্ত করা যায় এখানে।

স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম এই মসজিদ সম্পর্কে বলেন, ‘মসজিদটি তৈরি হয়েছে একটু ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। প্রচলিত মসজিদগুলোর ধরন থেকে আলাদা। আর মসজিদটি নির্মিত হয়েছে স্থানীয় ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে,অংশগ্রহণমূলক ধারণা থেকে। খরচও এসেছে সবার কাছ থেকে। পরিবেশবান্ধব এবং আলো-বাতাসের বিষয়টি মাথায় রেখে এর ডিজাইন করেছি। ইতিহাস, সংস্কৃতি, আবহাওয়াসহ নানা বিষয় মাথায় রেখে এর নির্মাণ করা হয়েছে। আর ব্যবহৃত সব উপকরণই স্থানীয়।’

কীভাবে যাবেন:

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে সর্বপ্রথম টঙ্গী আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ডে আসতে হবে। বাস স্ট্যান্ড থেকে পূর্ব দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুব উদ্দিন আহমেদ সড়কে প্রবেশ করতে হবে। তারপর সেখান থেকে লেগুনা,ব্যাটারিচালিত অটো অথবা ইজিবাইক কিংবা রিকশা যেকোনো একটিতে চেপে বসে ট্রান্সমিটার মোড় নামতে হবে। ট্রান্সমিটার মোড় নেমে হাতের বাম পাশের রাস্তা ধরে কিছুদূর এগোলেই হাতের ডানে দেখা মিলবে চমৎকার নকশাশৈলী পরিবেষ্টিত সেই মসজিদটির।

বায়তুর রউফ মসজিদে যাওয়ার সময় কোটবাড়ি রেললাইন,চুয়ারির টেক,কাঁঠালতলা স্থান পড়বে।

যাতায়াত খরচ:

আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে ট্রান্সমিটার মোড় পর্যন্ত ভাড়া পড়বে ব্যাটারিচালিত অটো এবং লেগুনাতে জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। রিকশাতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। লোকবল সংখ্যায় বেশি হলে ব্যাটারিচালিত অটো কিংবা লেগুনা সরাসরি রিজার্ভ করে যেতে পারবেন,সেক্ষেত্রে রিজার্ভ ভাড়া গুনতে হবে ব্যাটারিচালিত অটোতে ৭০ থেকে ১০০ টাকা এবং লেগুনাতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।