ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০১

ওমিক্রন, অনশন ও ভিসি কান্ড : খুঁজতে হবে গঠনমূলক সমাধান

24248_323.jpg
ওমিক্রনে বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। আক্রান্ত ও মৃত্যুও ঘটছে প্রতিনিয়ত। করোনার নানা ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে ডেল্টার পরেই এই মিউটেশন সারাবিশ্বে দ্রুত ছড়িয়েছে। সংক্রমণ এড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ পলিসি অনুযায়ী। বাংলাদেশেও করোনার সংক্রমণ  লাফিয়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বিগত কয়েকদিন আগের তুলনায়। এমতাবস্থায় সরকার বিধি-নিষেধ আরোপসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

আরোপিত বিধি-নিষেধগুলোর মধ্যে বিয়ে-শাদীসহ জনসমাবেশে করোনার সার্টিফিকেট নিশ্চিত করে সর্বাধিক ১০০ জন উপস্থিতিকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। এদিকে বিগত সময়ের লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন পর পরীক্ষা-ক্লাস চালু হলেও সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তা আবারো থমকে গেল। এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার স্বপ্নগুলো হতাশার সাগড়ে নিমজ্জিত হতে থাকে। আকস্মিক পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাজধানীর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে থাকে শনিবার।

অন্যদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুন্নেসা চৌধুরী  ছাত্রী হোস্টেলের প্রাধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচরণ করে। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ দিয়ে তাদের উপর লাঠিচার্জ করে। এতে আহত হন শিক্ষার্থীরা। যা দৃশ্যতই গণতান্ত্রিক পন্থায় প্রতিবাদের প্রক্রিয়াকে ধ্বংস ও অন্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর জের ধরে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে সেই আন্দোলন অনশনে রুপ নেয়। এরই মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী গত পাঁচদিন আগে অনশন শুরু করে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে। সংকট সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনশনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করেন শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায়। তাতেও সংকট নিরসন হয়নি।

এমতাবস্থায় একদিকে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে, অন্যদিকে সরকার শিক্ষার্থীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে উদ্যোগী না হয়ে বরং দীর্ঘায়িত করেছে। দৃশ্যত ঝুঁকি এড়ানোর জন্য গৃহীত সকল উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কারণ বাণিজ্য মেলার মতো জনসমাগম এখনো চালু রাখা হয়েছে। সাধারণত শর্তারোপ করা হলেও তাতে কোনো ফল পাওয়া যে যাবে না, বাজার-ঘাট, গণপরিবহন, ও মানুষের সার্বিক চলাফেরার দিকে দৃষ্টি দিলে তা সহজে অনুমেয়। 

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো, শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে আলোরপথে আনা, দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে সচল রাখা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজনৈতিক সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে জবাবদিহিতামূলক শাসন প্রতিষ্ঠা  করা এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এরই মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানা গুরুতর অভিযোগে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ ব্যক্তিসহ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে নেতিবাচক সমীকরণ। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগও যেমন আছে, তেমনি বৈদেশিক এমন নিষেধাজ্ঞা সার্বিকভাবে সুখকর নয়। ইসি গঠন, নির্বাচনকালীন সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক আছে, তা এখনি সর্বজনগ্রাহ্য সমাধানে উদারতার নীতি গ্রহণ সময়ের দাবি।

শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ বির্নিমাণ ও দাবি পূরণ কিংবা গঠনমূলক সমাধান এবং রাজনৈতিক স্ট্রাটেজিক্যাল সল্যুশন করতে সরকার উদ্যোগী না হলে দেশ গভীর সংকটের মুখোমুখী হতে পারে। তাই সময় ও উপযোগীতার দিকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থায়িত্বশীল সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।